বিধানসভা ভোটের মুখে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। তারকেশ্বরের জনসভা থেকে সরাসরি Mamata Banerjee-র কড়া বার্তা—“বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে, বাংলায় তো দূর করবই, দেশ থেকেও সরাব।” কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করে তিনি একদিকে যেমন নির্বাচনী কৌশল ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের প্রকল্প ও উন্নয়নকে সামনে রেখে ভোটের বার্তা দিয়েছেন।
রবিবারের সভায় Narendra Modi এবং Amit Shah-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি মাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পরিপন্থী। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি—২০২৩ সালে পাস হওয়া বিল এখনও কার্যকর হয়নি কেন, সেই জবাব দাবি করেন।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, Bharatiya Janata Party-র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইকে তিনি জাতীয় স্তরেও প্রসারিত করতে চাইছেন। তাঁর দাবি, “মহিলাদের উন্নয়ন নিয়ে বিজেপি শুধু কথাই বলে, কাজ করে না।” পাল্টা হিসেবে রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন।
সভা থেকে ভোটারদের সতর্কবার্তাও দেন তিনি। অভিযোগ করেন, ভোটের আগে মহিলাদের তথ্য সংগ্রহের নামে প্রতারণার চেষ্টা চলছে। “কোনও ফর্মে সই করবেন না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা আধার নম্বর কাউকে দেবেন না”—স্পষ্ট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর।
কৃষক, শ্রমিক ও যুবকদের জন্য একাধিক আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আলু চাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য, বীমা প্রকল্প, ক্ষেতমজুরদের আর্থিক সহায়তা, এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস—সব মিলিয়ে উন্নয়নমূলক বার্তা জোরালো করেন। পাশাপাশি ঘোষণা করেন, কাঁচা বাড়ি পাকা করার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।
সভায় কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইডি-সিবিআই অভিযান চালানো হচ্ছে। এমনকি নিজের নিরাপত্তা ঘিরেও প্রশ্ন তোলেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা—“অহংকার নয়, ঐক্যই শক্তি।” নির্বাচনের আগে সংগঠনকে মজবুত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।



