মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র। ইরানের হামলায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন— এমন জল্পনা ছড়াতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও ইজরায়েল সরকার দ্রুত সেই খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু তার পরেই কড়া বার্তা দেয় ইরানের সেনা। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— নেতানিয়াহু যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।
গত কয়েকদিন ধরেই ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত ভয়াবহ আকার নিয়েছে। যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইরান আবারও ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও অধিকাংশ হামলাই প্রতিহত করেছে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
শুক্রবার এই সংঘাত নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দাবি করেন, ভিডিওটি নকল। একটি মুহূর্তে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গিয়েছে বলে দাবি করে অনেকে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে— তাহলে কি তিনি সত্যিই জীবিত নন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও কি প্রকাশ করা হয়েছে?
জল্পনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ঘোষণার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “নেতানিয়াহু একজন অপরাধী। শিশুদের হত্যা করেছেন। তিনি যদি সত্যিই বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে ইরান।”
এর পরপরই তেল আভিভ লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সেই হামলার বেশিরভাগই প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।
এর জবাবেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং তুরস্কের দিকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, সংঘাত এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশই একে অপরের শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করছে— যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।



