মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের নাতানজ় পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এবার সরাসরি ইজ়রায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ল তেহরান। ডিমোনা ও আরাদ শহরে আছড়ে পড়া শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে বহুজনের অবস্থা গুরুতর—ফলে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, Shimon Peres Negev Nuclear Research Center-কে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। ডিমোনা শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র বহুদিন ধরেই কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল বলে বিবেচিত।
ইজ়রায়েলের Arad শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানেই অন্তত ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে Dimona শহরে জখম হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন। এই তথ্য জানিয়েছে Magen David Adom, যা দেশের প্রধান জরুরি পরিষেবা সংস্থা।
মিসাইলের আঘাতে একাধিক আবাসিক ভবনের সামনের অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং বিস্ফোরণের অভিঘাতে মাটিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো ধেয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
ইজ়রায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী বা Israel Defense Forces জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় থাকলেও এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফিল ডেফরিন জানিয়েছেন, কেন এই প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের Natanz Nuclear Facility-তে ইজ়রায়েলের বিমান হামলার পর কোনও তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি বলে দাবি করেছে তেহরান। সরকারি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে ওই কেন্দ্রের একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকিরণের আশঙ্কা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



