মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে একাধিক হামলার খবর সামনে এসেছে। দুবাই বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন হামলা, বাহরিনে বিস্ফোরণ এবং হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই হামলায় এক ভারতীয়-সহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে খবর।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইরান একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় চারজন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে বাহরিনেও বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। বিস্ফোরণের পর সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। যদিও এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
একই সময়ে ইজরায়েলের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তবে সেই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হওয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এর আগেই মঙ্গলবার রাতে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এর পরপরই ইরানের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থার উপর সাইবার বা আর্থিক হামলার অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের দেশের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকা ও ইজরায়েল সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ব্যাঙ্ক ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে লেবাননেও সংঘাত বাড়ছে। ইজরায়েলের হামলায় সেখানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর।








