মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ প্রায় থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এটাই তৃতীয়বার ফোনে কথা হল দুই বিদেশমন্ত্রীর। পাশাপাশি ইরানে নতুন সুপ্রিম লিডার ঘোষণার পর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কথোপকথন।
ফোনালাপের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেই তথ্য জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি লেখেন, বুধবার সন্ধ্যায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে দুই দেশই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলার পর ইরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের বিদেশমন্ত্রীকে অবগত করেছেন আরাগাছি। বিশেষ করে ইরানে একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও ভারতের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
এই ফোনালাপে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও উঠে আসে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচলের পক্ষে তারা রয়েছে। তবে আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের জেরে সেই পরিস্থিতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা তৈরি হওয়ায় বহু দেশের মতো ভারতেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



