পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের অর্থনীতি ও নিরাপত্তায়— এমন আশঙ্কার মাঝেই বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা— কোনও বড় ঘোষণা কি আসতে চলেছে?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মোদি। মূলত পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘর্ষ— বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের প্রস্তুতি ও রাজ্যগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে গুরুত্ব পাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— এলপিজি গ্যাস সরবরাহ, সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা, শক্তি সুরক্ষা এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব যাতে দেশের দৈনন্দিন জীবনে না পড়ে, তার জন্য কী কী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই দিকেও জোর দেওয়া হবে।
তবে যে রাজ্যগুলিতে বর্তমানে নির্বাচন চলছে, সেগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের সঙ্গে পরে আলাদা বৈঠক করবে কেন্দ্র, যেখানে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিস্তারিত আপডেট নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে ইঙ্গিত, করোনা পর্বের মতোই ‘টিম ইন্ডিয়া’ ভাবনায় সব রাজ্যকে একসঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে যেভাবে কাজ করেছিল, বর্তমান আন্তর্জাতিক সংকটেও তেমন সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া, আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য জরুরি পরিকল্পনা (contingency planning) এবং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, এই বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক নয়— বরং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলার রূপরেখা তৈরির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



