পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নড়াচড়া শুরু করল তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ এবং রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রাক্তন সচিব মণীশ জৈনকে ফের তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের। জানা গেছে, ১৬ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে হবে দুইজনকেই।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, এসএসসি-র নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। সম্প্রতি এই একই মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করেছিল ইডি। পাশাপাশি শতাধিক চাকরিপ্রার্থীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে—যাঁদের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও তাঁরা চাকরি পাননি।
তদন্তকারীদের মতে, এই প্রার্থীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে, যা গোটা দুর্নীতির চক্র সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে। এতদিন পর আবার কুন্তল ঘোষ ও মণীশ জৈনকে তলব করায় তদন্তে নতুন করে গতি আনার চেষ্টা করছে ইডি বলেই মনে করা হচ্ছে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষের নাম মূলত ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে উঠে আসে। তদন্তকারীদের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
২০২৩ সালে এই মামলায় কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। জেলে থাকার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে একটি ডায়েরি রয়েছে যেখানে দুর্নীতির টাকার হিসাব—কাকে, কখন এবং কত টাকা দেওয়া হয়েছে—তার বিস্তারিত নথিভুক্ত রয়েছে। সেই দাবি ঘিরে তৎকালীন সময়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে প্রায় ১৯ মাস জেলে থাকার পর ২০২৪ সালে তিনি জামিন পান। আদালত তখন পর্যবেক্ষণে জানায়, মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চলতে পারে, তাই এতদিন হেফাজতে রাখা যুক্তিযুক্ত নয়।
তদন্তে কুন্তল ঘোষের বয়ান থেকেই উঠে আসে প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনের নাম। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। আগে গ্রেফতার হওয়া অন্যান্য অভিযুক্ত এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বয়ানের সঙ্গে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়েছিল।
এবারও তদন্তকারীরা একই পদ্ধতিতে নতুন করে তথ্য যাচাই করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী দিনে তদন্তে নতুন দিক সামনে আসতে পারে বলেই অনুমান।



