জ্বালানির তীব্র সঙ্কটে গরীব পাকিস্তানে কার্যত ‘লকডাউন’, বন্ধ স্কুল-অফিস

হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে। জ্বালানি সঙ্কটে পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ, অফিসে কাজের দিন কমানোসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ। বহু দেশে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ক্রমশ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটকে তীব্র করে তুলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন বিভিন্ন তেল উৎপাদন ও শোধনাগার কেন্দ্রেও হামলার খবর মিলছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। শুধু ভারত নয়, অন্তত দশটি দেশে ইতিমধ্যেই গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার নিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান কার্যত জ্বালানি সাশ্রয়ের ‘লকডাউন’-এর পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে। কারণ বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের একটি বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশে দেশের স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলিতে কাজের দিন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক ছাড়া অধিকাংশ সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চার দিন খোলা থাকবে।

এর পাশাপাশি আগামী দু’মাসের জন্য সরকারি দপ্তরগুলির জ্বালানি বরাদ্দে প্রায় ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি কর্মীদের প্রায় অর্ধেককে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের ভাতা কমানোসহ একাধিক ব্যয়সংকোচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সেখানে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং গাড়ির ক্ষেত্রে দশ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউরোপেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। ফ্রান্সসহ একাধিক দেশে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ছবি সামনে আসছে। আমেরিকার ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানা রাজ্যে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১১ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মায়ানমারে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য যানবাহনের ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় নম্বরভিত্তিক চলাচল চালু করা হয়েছে। অনেক জায়গায় জ্বালানির অভাবে পাম্প বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে গিয়ে তেল কিনছেন।

ভিয়েতনাম সরকারও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। সামগ্রিকভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতি, পরিবহণ ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন