‘আমাদের কথায় রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছিল ভারত, এখন অনুমতি দিয়েছি’! আবার অপমান আমেরিকার?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক। হোয়াইট হাউসের দাবি, আমেরিকার কথাতেই ভারত একসময় রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছিল, আর বর্তমান সঙ্কটের পরিস্থিতিতে আমেরিকাই আবার ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই মন্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ভারতের জ্বালানি নীতি কি সত্যিই ওয়াশিংটনের নির্দেশে নির্ধারিত?

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারত আমেরিকার একটি “ভাল বন্ধু” এবং অতীতে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় “ভাল ভূমিকা” পালন করেছে। তাঁর দাবি, সেই কারণেই বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের সময় ভারতকে সাময়িক ভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ভারতের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে অবশ্য আমেরিকার অভ্যন্তরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার তেল বাজারকে চাপে ফেলতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন, সেই নীতিতেই এবার ব্যতিক্রম ঘটল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বিতর্কের জবাবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, এটিকে “অনুমতি” বলা ঠিক নয়। বরং পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু তেলবাহী জাহাজ গ্রহণ করার জন্য।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছে। সেগুলিকে অন্যত্র পাঠানোর পরিবর্তে ভারতের বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হলে বাজারে বড় কোনও আর্থিক সুবিধা পাবে না রাশিয়া—এমনটাই মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বের মোট তেল রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গভীর। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানের অবরোধের ফলে সেই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়ার তেল আমদানির এই অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের।

মার্কিন ট্রেজ়ারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও আগে জানিয়েছিলেন, ভারতের ধারাবাহিক “সহযোগিতামূলক ভূমিকা” বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও একবার স্পষ্ট করল।

তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্য ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন