বোমায় বিধ্বস্ত ইরান: মৃতের সংখ্যা ৭৮৭, হাসপাতাল–স্কুলে হামলার অভিযোগে চরম ক্ষোভ

মৃতের সংখ্যা ৭৮৭ ছাড়াল ইরানে; হাসপাতাল ও স্কুলে হামলার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী বন্ধে বিশ্ব তেল বাজারে চাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলায় ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৮৭। ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত তাসনিম নিউজ় এজেন্সিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী Iranian Red Crescent Society এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে। সোমবারও যেখানে মৃত্যু ছিল ৫৫৫, মাত্র একদিনে তা অনেকটা বেড়েছে। জখমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়ি ও হাসপাতালগুলিতে চলছে উদ্ধারকাজ।

চার দিনের সংঘাতে বাড়ছে রক্তক্ষয়

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্ত হয়েছে একাধিক দেশ। ইরানের সুপ্রিম লিডার Ayatollah Ali Khamenei-র মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে, নিহত হয়েছেন Islamic Revolutionary Guard Corps-এর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডারও—এমনই অভিযোগ তেহরানের।

পাল্টা হিসেবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও ওমান—বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের খবর মিলেছে। মঙ্গলবার Riyadh-এ মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে।

হাসপাতাল ও স্কুলে হামলার অভিযোগ

ইরানের দাবি, একাধিক হাসপাতালকে নিশানা করা হয়েছে। তেহরানের গান্ধী হাসপাতালসহ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত। দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় বহু শিশু ও কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

লেবাননে পাল্টা অভিযান

ইরান-সমর্থিত Hezbollah-র বিরুদ্ধে লেবাননে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে ইজ়রায়েল। দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরুর খবরও সামনে এসেছে। ফলে সংঘাত এখন বহুমুখী রূপ নিয়েছে।

জ্বালানি বাজারে অশনি সংকেত

সংঘর্ষের চতুর্থ দিনেও শান্তির ইঙ্গিত নেই। ইরান Strait of Hormuz বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ব তেল সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক শক্তিক্ষেত্রে বড়সড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

ক্রমবর্ধমান হতাহতের সংখ্যা, অবকাঠামোর ধ্বংস এবং জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ। শান্তি আলোচনার কোনও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও সামনে আসেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত