‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’: আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে কী কী সমরাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান?

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এ খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের জোরালো সামরিক জবাব।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি ও সংগঠিত সামরিক জবাব হিসেবে ইরান শুরু করেছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’। এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খেইবার শেকন’ এবং আত্মঘাতী ড্রোন ‘শাহেদ ১৩৬’—যার মাধ্যমে ইরান দাবি করছে, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে নির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানা হচ্ছে।

ইরানের সরকারি ও ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের দাবি, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই তেহরান প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল—“নরকের দরজা দেখিয়ে ছাড়া হবে না।” সেই হুঁশিয়ারির পর থেকেই আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। ইরান বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছে, ইজ়রায়েলের সেনাঘাঁটি ও সরকারি দফতর থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার জন্য।

মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলা
মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলা। ছবি: সংগৃহীত।

খেইবার শেকন: ইরানের দূরপাল্লার বার্তা

এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ‘খেইবার শেকন’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ইরানের সলিড ফুয়েল প্রযুক্তিনির্ভর চতুর্থ প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ২০০০ কিলোমিটার। সেই হিসেবে ইজ়রায়েল ছাড়াও মিশর, সৌদি আরব এমনকি ইউরোপের কিছু অংশও এর আওতায় পড়ে।

ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক গাইডেন্স সিস্টেম রয়েছে, যা লক্ষ্যভেদে নির্ভুলতা বাড়ায়। প্রায় ১৫০০ কেজি ওজনের এই অস্ত্র উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। তেহরানের বক্তব্য, তারা এখনও সামরিক শক্তির “সামান্য অংশ” ব্যবহার করছে—প্রয়োজনে পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানতে প্রস্তুত।

উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে ‘ট্রু প্রমিস ১’ অভিযানে প্রথমবার ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছিল ইরান। বর্তমান অভিযানে তার আরও বিস্তৃত ও ঘনঘন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

শাহেদ ১৩৬: সস্তা, ছোট, কিন্তু মারাত্মক

ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরান ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে ‘শাহেদ ১৩৬’ আত্মঘাতী ড্রোন। আকারে ছোট হলেও কার্যক্ষমতায় অত্যন্ত কার্যকর এই ড্রোন ২০০০ থেকে ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ইরান থেকে ইজ়রায়েলের দূরত্ব আনুমানিক ১৬০০-১৮০০ কিলোমিটার—ফলে সরাসরি আঘাত হানার মতো সক্ষমতা রয়েছে এর।

২০২০ সালে তৈরি হওয়া এই ড্রোন তুলনামূলকভাবে কম খরচে ব্যাপক উৎপাদনযোগ্য। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে এই ড্রোন ব্যবহার করে হামলার দাবি করেছে ইরান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, “সোয়ার্ম ট্যাকটিক্স”—অর্থাৎ একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করার কৌশল—এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন অধ্যায়?

‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুধু প্রতিশোধমূলক অভিযান নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা—ইরান দেখাতে চাইছে, তারা প্রযুক্তি ও দূরপাল্লার আক্রমণক্ষমতায় যথেষ্ট প্রস্তুত। একই সঙ্গে এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

ইরানের তরফে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও শক্তিশালী ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত