মধ্যপ্রাচ্যে ফের বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা। ইরান (Iran)-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে (Iraq) যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং সৌদি আরব (Saudi Arabia)। গত ৩০ দিনে সৌদি তেলের স্থাপনা-সহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। একই সময়ে জর্ডানে (Jordan) মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে, ফলে গোটা অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত এক মাসে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নির্দেশে অন্তত ৩০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামো। এরই জবাবে ইরাকে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ঘাঁটিতে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী আরও অভিযোগ করেছে, জর্ডানে তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি ছিল একটি “আকস্মিক হামলার চেষ্টা”। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
পরিস্থিতির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সামরিক ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, পাল্টা হামলা ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এদিকে ইজরায়েলের (Israel) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) নিজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ইজরায়েলের বড় কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে তিনি বহুবার নিজের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যে এমন কিছু কূটনৈতিক সমঝোতার দিকেও আগ্রহী, যেখানে ইজরায়েলের প্রত্যক্ষ ভূমিকা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ থাকছে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে ইজরায়েলকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে।
ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আগের মতো কার্যকর রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারবে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



