আইপিএলে বাংলার ক্রিকেটারদের অবহেলা করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তাড়া করে বেড়াচ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। চলতি IPL মিনি নিলামের একেবারে শেষ মুহূর্তে সেই সমালোচনারই জবাব দিল নাইট শিবির। বাংলার পেসার আকাশ দীপকে ১ কোটি টাকার বেস প্রাইসেই দলে নিল কেকেআর।
নিলামের প্রথম পর্বে আকাশ দীপ অবিক্রীত থাকায় অনেক সমর্থকই আশঙ্কায় ছিলেন—এ বারও হয়তো আইপিএলে তাঁর জায়গা হবে না। কিন্তু শেষ লটে আকাশকে তুলে নিয়ে কার্যত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল নাইট ভক্তরা। আকাশ দীপ হলেন এ বারের নিলামে KKR-এর ২৫তম ক্রিকেটার।
নিলামের শুরুতে বড় বাজি, শেষে চমক
এ বার নিলামে কেকেআরের শুরুটাই ছিল ঝাঁকুনি দিয়ে। প্রথমেই তারা ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি টাকা খরচ করে দলে নেয়। এর পর মাথিশা পাথিরানার জন্য ১৮ কোটি টাকা ঢালে নাইটরা। সবচেয়ে বেশি পার্স হাতে থাকা দল হিসেবে এই বড় কেনাকাটা প্রত্যাশিতই ছিল।
তবে শেষ বেলায় এসে আকাশ দীপকে নেওয়াটাই নিলামের অন্যতম চমক। দীর্ঘদিন ধরেই কেকেআরে বাংলার ক্রিকেটারদের দেখা যাচ্ছিল না। অথচ আইপিএলে বাংলার হয়ে মুকেশ কুমার, অভিষেক পোড়েল, আকাশ দীপরা খেললেও নাইট শিবিরে সুযোগ পাননি তাঁরা।
আকাশ দীপের সামনে নতুন সুযোগ
এর আগে ২০২৫ সালের মেগা নিলামে লখনৌ সুপার জায়ান্টস ৮ কোটি টাকা দিয়ে আকাশ দীপকে দলে নিয়েছিল। তবে সেখানে সুযোগ পেয়েছিলেন সীমিত—৬ ম্যাচে মাত্র ৩টি উইকেট। আইপিএলে ধারাবাহিকতা না থাকলেও চলতি মরশুমের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো ছন্দে রয়েছেন তিনি। কেকেআরের বোলিং আক্রমণে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার সুযোগ এবার তাঁর সামনে।
রাচিন রবীন্দ্রও এলেন নাইট শিবিরে
নিলামের শেষ দিকেই কেকেআর দলে নেয় নিউ জ়িল্যান্ডের ওপেনার রাচিন রবীন্দ্রকে। ২ কোটি টাকার বেস প্রাইসে তাঁকে কেনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন রাচিন।
২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ১০ ম্যাচে ২২২ রান করেছিলেন তিনি। যদিও ২০২৫ মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স কিছুটা ম্লান ছিল। নিলামের আগে অনিল কুম্বলে জানিয়েছিলেন, রাচিনের দল পাওয়া কঠিন হতে পারে। কিন্তু সেই অনুমান ভুল প্রমাণ করে তাঁকে তুলে নিল কেকেআর।
সব মিলিয়ে, নিলামের শেষ লগ্নে আকাশ দীপ ও রাচিন রবীন্দ্রকে দলে নিয়ে কেকেআর একদিকে যেমন নিজেদের স্কোয়াড পূর্ণ করল, তেমনই বাংলার ক্রিকেটারদের উপেক্ষার অভিযোগেরও জবাব দিল—মাঠে সুযোগ দিয়েই।



