ইনদওরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে একদিনের সিরিজ় জিতে ইতিহাস গড়েছিল নিউ জ়িল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের ব্যাটে ভর করেই ম্যাচসেরা এবং সিরিজ়সেরা—দুটো পুরস্কার মিলিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার বেশি প্রাইজমানি ঘরে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু অবাক করা কথা, সেই ইনদওরেই এক ‘ভিক্ষুক’-এর সম্পদের অঙ্কের সামনে হার মানিয়ে দিল মিচেলের সাফল্য। মাঠে জয় এলেও, মাঠের বাইরের এই বাস্তবের কাছে যেন হেরে গেলেন কিউই তারকা।
মধ্যপ্রদেশের ইনদওর শহরে ‘ভিক্ষুকশূন্য’ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসনের নজরে আসেন প্রায় ৫০ বছর বয়সের এক ভিক্ষুক। কুষ্ঠরোগে হাত-পায়ের আঙুলের বড় অংশ ক্ষয়ে যাওয়ায় কর্মক্ষমতা হারালেও তাঁর আর্থিক অবস্থান দেখে চোখ কপালে ওঠে আধিকারিকদের। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির মালিকানায় রয়েছে তিনটি পাকা বাড়ি—যার মধ্যে একটি তিনতলা, একটি নিজস্ব গাড়ি এবং তিনটি অটো, যেগুলি নিয়মিত ভাড়া খাটানো হয়।


পুরসভার অভিযানে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি প্রতিদিন একটি চার চাকা লাগানো কাঠের পাটাতনে চেপে ভিক্ষা করতে বেরোন। মজার বিষয়, ভিক্ষার জন্য যাওয়ার সময় নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেন এবং গাড়ি চালানোর জন্য আলাদা চালকও রেখেছেন। এ ছাড়া কয়েক লক্ষ টাকা সোনা ও রুপোর বাজারে বিনিয়োগ করে প্রতিদিন সুদের টাকা পান তিনি।
‘ভিক্ষুকশূন্য’ অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র জানান, স্থানীয়দের সূত্র ধরে সারাফা এলাকা থেকে ওই ভিক্ষুককে উদ্ধার করা হয়। তাঁর দাবি, ২০২১ সাল থেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত ওই ব্যক্তি দিনে গড়ে ৪০০–৫০০ টাকা ভিক্ষা করেন। তার পাশাপাশি চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ধার দিয়ে দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত সুদ পান। উদ্ধার করার পরে তাঁকে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে।
ইনদওরের জেলাশাসক শিবম বর্মা জানিয়েছেন, শহরে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ ভিক্ষা করলে বা ভিক্ষা দিতে দেখা গেলে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেন। এরপর উদ্ধারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। ওই ভিক্ষুকের সম্পত্তি এবং আয়ের উৎস খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


তবে বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের প্রধান রুপালি জৈনের মতে, শুধুমাত্র আইনিভাবে নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তি আগে মিস্ত্রির কাজ করতেন। কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মহীন হয়ে পড়েন। পরিবার ও সমাজের একঘরে করে দেওয়াতেই তিনি ভিক্ষাবৃত্তির পথে যেতে বাধ্য হন। এর আগেও তাঁকে ভিক্ষা ছাড়তে বোঝানো হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেই পুরনো পথে ফিরে যান বলে দাবি সংগঠনের।
মাঠে ড্যারিল মিচেলের প্রাইজমানির অঙ্ক যেখানে কয়েক লক্ষে সীমিত, সেখানে ইনদওরের এই ভিক্ষুকের সম্পত্তির হিসাব রীতিমতো চমকে দিয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে। ‘ভিক্ষুকশূন্য ইনদওর’ অভিযানের মাঝেই উঠে আসা এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলছে—ভিক্ষাবৃত্তি, সামাজিক দায়িত্ব আর প্রশাসনিক কড়াকড়ির মাঝখানে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মানবিকতা।







