যুদ্ধের বাজারে বড় ডিল, ভারতের ব্রহ্মোস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, প্রায় ৩২০০ কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

ভারতের তৈরি সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে প্রায় ৩২০০ কোটির চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া। নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর আস্থা দেখিয়ে সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিল ইন্দোনেশিয়া। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩২০০ কোটি টাকা) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন, এই চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ। যদিও তিনি চুক্তির নির্দিষ্ট আর্থিক মূল্য প্রকাশ করতে চাননি। অন্যদিকে, এই বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস হল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগ। ব্রহ্মোস নামটি এসেছে ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদ এবং রাশিয়ার মস্কোভা নদীর নাম থেকে।

ব্রহ্মোস একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিশ্বের দ্রুততম ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি শব্দের গতির প্রায় ২.৮ থেকে ৩ গুণ গতিতে উড়তে সক্ষম। এই উচ্চগতির কারণে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেও এটিকে আটকানো অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হয়।

এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থল, সমুদ্র, উপকূল এবং আকাশ—সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। বিশেষ করে ভারতের সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকেও এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তিতে কাজ করা এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভ্রষ্টতার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, যার সার্কুলার এরর প্রবাবিলিটি (CEP) প্রায় ১ মিটার।

বর্তমানে ব্রহ্মোসের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার হলেও তা ভবিষ্যতে ৪৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে জানা গিয়েছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে (সি-স্কিমিং) উড়ে শত্রুর রাডার এড়িয়ে যেতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উচ্চতাতেও উড়তে পারে।

এর আগে ২০২২ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপিন্সের সঙ্গে ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই নতুন চুক্তিকে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ নিয়েও কাজ চলছে। ব্রহ্মোস-এনজি (নেক্সট জেনারেশন) তৈরি করা হচ্ছে হালকা এবং আরও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে, যা তেজাসের মতো যুদ্ধবিমানেও ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও ব্রহ্মোস-২ নামে একটি হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যার গতি ম্যাক ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর