নজরবন্দি ব্যুরো: এবার যাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ, বৃহন্নলাদের পেশায় লাগাম টানল আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশন। দুরপাল্লা হোক বা লোকাল, ট্রেনে উঠলে বৃহন্নলাদের ভিক্ষা করার দৃশ্য বোধহয় সকলেরই গোচরে পড়ে। কারণ, সেটাই তাঁদের পেশা। কিন্তু এতে অনেক সময়ই বিরক্ত হন যাত্রীরা। একটা স্বাভাবিক অভিযোগ থেকেই যায় যাত্রীদের তরফে যে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা টাকার জন্য বিরক্ত করেন বা জোরজুলুম করে থাকেন। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিল আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশন।
আরও পড়ুন: প্রয়াত মহীনের শেষ ‘ঘোড়া’, চিরঘুমের দেশে বাপিদা


জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনে বৃহন্নলাদের ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈধ টিকিট ছাড়া এই ডিভিশনের কোনো ট্রেনে চড়তেও পারবেন না তাঁরা। শনিবার আলিপুরদুয়ার ডিআরএম অফিসে একটি বৈঠক করেন রেলের একাধিক আধিকারিক। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আর ট্রেনে উঠে টাকা চাইতে পারবে না বৃহন্নলারা। এমনকি ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাত্রীদের অভিযোগ, টাকা না পেলে তাঁদের ওপর চড়াও হন বৃহন্নলাদের একাংশ। অনেক সময় গায়ে হাত, যৌন প্রস্তাব দিয়ে টাকা লুঠ ইত্যাদি চলতেই থাকে। এবার যাত্রীদের যাতে এই সমস্ত অত্যাচারের সম্মুখীন না হতে হয় তাই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে জানিয়েছে রেল।

অন্যদিকে, একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এই যে এত অভিযোগ, এত কিছু এর জন্য কি শুধু বৃহন্নলারাই দায়ী? সমাজ কি দায়ী নয়? বর্তমানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা কিছুটা স্বীকৃতি পেয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ছিলেন সব কিছু থেকেই বঞ্চিত। বিশেষ করে পড়াশোনার সুযোগ ছিল খুবই কম। পাশে থাকত না পরিবারও। সমাজের কটূক্তি তো ছিলই। আর এই সব কিছুকে গায়ে মেখেই ভিক্ষার পেশায় আসেন তাঁরা। সমাজের নিষ্ঠুরতাই তাঁদের করে তোলে উগ্র। তাঁরাও ক্রমে বুঝতে পারে, এই সমাজে লড়াই করেই বাঁচতে হবে। আর নানান অত্যাচার তাঁদের মনে সাধারণ মানুষ সম্পর্কে একটা বিরূপ ধারণার জন্ম দেয়। এখন, তাঁদের পেশায় লাগাম টানলেও কিন্তু বৃহন্নলাদের জীবনধারণের দায়িত্ব বর্তায় সরকারের ওপরেই।


এবার যাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ, বৃহন্নলাদের পেশায় লাগাম টানল রেল








