টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে শক্তি দেখাল ভারত, কিন্তু স্বস্তির পাশাপাশি রেখে গেল বড় প্রশ্নচিহ্ন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের শেষ ম্যাচে ২৭১ রানের পাহাড় গড়ে ৪৭ রানে জিতলেও, তিরুঅনন্তপুরমে ম্যাচের অনেকটা সময় জুড়েই দুশ্চিন্তায় ভুগল টিম ইন্ডিয়া। ব্যাটিংয়ে বিধ্বংসী ফর্মে ঈশান কিষান, সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পাণ্ডিয়া—সব ঠিকঠাক। কিন্তু বোলিংয়ে যে ভাঙন ধরা পড়ল, বিশ্বকাপের আগে সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা হয়ে রইল।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ় জিতল ভারত ৪–১ ব্যবধানে। শেষ টি–টোয়েন্টিতে ভারতের ২৭১ রানের জবাবে কিউয়িদের ইনিংস থামল ২২৫-এ। ব্যবধান যতটা স্বস্তিদায়ক, ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতি ততটাই অস্বস্তিকর ছিল। একসময় তো মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ব্যাটিংয়ে ঝড়, ঈশানের বার্তা
এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং আবারও ছিল প্রদর্শনীর মতো। সব আলো কাড়লেন Ishan Kishan। দীর্ঘ দু’বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এমন প্রত্যাবর্তন যে বিশ্বকাপের আগে নির্বাচকদের ভাবতে বাধ্য করবে, তা বলাই বাহুল্য। ৪৩ বলে ১০৩ রান—৬টি চার, ১০টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট প্রায় ২৫০। ঈশ সোধির এক ওভারে ২৯ রান তুলে কার্যত ম্যাচের সুর বেঁধে দেন তিনি।
Suryakumar Yadav ৬৩ রানের ঝরঝরে ইনিংস খেলেন। তাঁর আউটের পর শেষদিকে Hardik Pandya-র ১৭ বলে ৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস স্কোরবোর্ডকে ২৭১-এ পৌঁছে দেয়। টি–টোয়েন্টিতে এটি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলগত রান।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ Sanju Samson। মাত্র ৬ রানেই ফেরেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হল।
বোলিংয়ে অস্বস্তি, গম্ভীরের কপালে ভাঁজ
ব্যাটিং যতটা নিশ্চিন্ত, বোলিং ততটাই অনিশ্চিত। শিশিরের প্রভাব থাকলেও, ২৭২ রান তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড যে ভাবে সমানে সমানে টক্কর দিল, তা ভারতের জন্য অশনিসঙ্কেত। Jasprit Bumrah ও Varun Chakravarthy—দু’জনেই প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি। কোচ Gautam Gambhir-এর সঙ্গে ডাগআউটে উদ্বেগের আলোচনা চোখে পড়েছে।
শুরুতে Arshdeep Singh টিম সেইফার্টকে ফিরিয়ে দিলেও, Finn Allen একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৩৮ বলে ৮০ রান—৮টি চার, ৬টি ছক্কা। তাঁকে আউট করেন Axar Patel।
এর পরও Rachin Ravindra, Glenn Phillips ও Mitchell Santner ম্যাচে উত্তেজনা জিইয়ে রাখেন। শেষদিকে Daryl Mitchell ১২ বলে ২৬ করে আবার চাপ বাড়ান। শেষ পর্যন্ত নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
অর্শদীপ ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বোলিং আক্রমণ কি বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে পারবে?
বিশ্বকাপের আগে অঙ্ক কষা
এই ম্যাচে ঈশান শুধু ব্যাটিং নয়, উইকেটের পিছনেও দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে বিশ্বকাপে কিপার-ব্যাটার হিসেবে তাঁর জায়গা প্রায় নিশ্চিত। তিলক বর্মা দলে ঢুকলে ঈশান ওপেনিংয়ে চলে আসবেন—এই বদলই আপাতত সবচেয়ে সম্ভাব্য। কিন্তু বোলিংয়ে যে ঘাটতি ধরা পড়ল, তা দ্রুত মেরামত না হলে বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।



