হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব! ভারতের হাতে আর ২৫ দিনের তেল, পরিস্থিতি নজরে রাখতে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলল কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা। ভারতের হাতে মাত্র ২৫ দিনের তেল মজুত, পরিস্থিতি সামলাতে তেল সরবরাহ পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলল কেন্দ্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারতের তেল মজুত নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে ভারতের ভান্ডারে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নয়া দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের তেল সরবরাহ ও মজুতের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্যই এই কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। কত তেল মজুত রয়েছে, আমদানি পরিস্থিতি কী—এসব বিষয়ে সারাক্ষণ নজর রাখা হবে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই কন্ট্রোল রুম দিনরাত খোলা থাকবে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেও আলাদা একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি টোল-ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে—
১৮০০১১৮৭৯৭, ৯১-১১-২৩০১২১১৩, ৯১-১১-২৩০১৪১০৪ এবং ৯১-১১-২৩০১৭৯০৫।

এছাড়াও বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের যোগাযোগ নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানি হামলার পরে কাতার তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অয়েল ফিল্ডে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের এলপিজি পাইপলাইনেও হামলার খবর সামনে এসেছে। ফলে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারত মূলত সৌদি আরবের উপর এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। পাশাপাশি নরওয়ে এবং আমেরিকা থেকেও কিছু পরিমাণ গ্যাস আমদানি করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগেও সরকারি সূত্রে বলা হয়েছিল, ভারতের ভান্ডারে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মজুত দ্রুত কমে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই আবহে রাশিয়া ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। মস্কোর তরফে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে ভারতকে তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত তারা। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পর রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছিল ভারত।

ফলে এখন যদি আবার রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বাড়ানো হয়, তা হলে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত