গ্যাস সরবরাহে চাপ স্বীকার কেন্দ্রের, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে উদ্বেগ—জ্বালানি নিরাপত্তায় কড়া বার্তা ভারতের

এলপিজি সরবরাহে চাপ স্বীকার কেন্দ্রের, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা—রাশিয়া-সহ বিকল্প আমদানির পথে হাঁটছে ভারত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশজুড়ে এলপিজি ঘাটতির আশঙ্কা যখন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তখনই কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি—আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়েছে। একইসঙ্গে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতকে ঘিরে জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা নিয়ে কড়া বার্তাও দিল ভারত। সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, তা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিল মোদি সরকার।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনে রাশিয়া-সহ একাধিক দেশ থেকে এলপিজি আমদানির পথ খোলা রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—যা ইরান ও ইজরায়েল, উভয় পক্ষের প্রতিই একপ্রকার কূটনৈতিক বার্তা।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক অবশ্য জানাচ্ছে, দেশে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের বড় ধরনের ঘাটতি নেই। সাম্প্রতিক আতঙ্ক এবং গুজবের জেরে ‘প্যানিক বুকিং’ বেড়ে যাওয়াতেই সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকারের দাবি, বর্তমানে মোট বুকিংয়ের প্রায় ৯৪ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক নিয়মে বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জেরে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন জয়সওয়াল। বিশেষ করে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র এবং কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে আঘাত হানার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের উপর।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের আশ্বাস সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল—আর তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের প্রতিটি ঘরে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত