যুদ্ধের মাঝেই সোনায় বড় পতন! দাম নেমে ৮০ হাজার হতে পারে?

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যেই সোনা-রুপোর দামে বড় পতন, ডলারের শক্তিতে বদলেছে বাজার—এখনই কিনবেন, না অপেক্ষা করবেন, দ্বিধায় ক্রেতারা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আবহে যেখানে সাধারণত সোনার দাম বাড়ে, সেখানে এবার দেখা গেল একেবারে উল্টো ছবি। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পর থেকেই সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন—যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। তবে এই পতন সাময়িক, নাকি দীর্ঘমেয়াদি—তা নিয়েই এখন বাজারে জোর জল্পনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মূল কারণ ডলারের শক্তিশালী হয়ে ওঠা। যুদ্ধের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন, ফলে সোনার চাহিদা কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

সম্প্রতি দেখা গেছে, একদিনেই সোনার দামে কয়েক হাজার টাকার পতন হয়েছে। প্রতি সোভরেনে প্রায় ৭,৬০০ টাকা কমে দাম নেমে এসেছে প্রায় ১,০১,৩৬০ টাকায়। প্রতি গ্রাম সোনার দামও নেমে গিয়েছে প্রায় ১২,৬৭০ টাকায়। যদিও দিনের শেষে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার।

রুপোর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। সকালে বড় পতনের পর সন্ধ্যায় দাম কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

মার্চ মাসে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ১৫% এবং রুপোর দাম প্রায় ২৫% কমেছে বলে জানা যাচ্ছে। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা এবং মার্কিন বন্ডের চাহিদা বাড়াও এই পতনের অন্যতম কারণ। ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে ঝুঁকছেন।

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম আরও কমতে পারে। এমনকি খুব শীঘ্রই ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ টাকার নিচে প্রায় ৮০ হাজার টাকায় নেমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সোনার চাহিদা বাড়বে এবং দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় যারা গয়না বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কিনতে চাইছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, দাম ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ভবিষ্যতে আবার বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর