মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বড় কূটনৈতিক বার্তা দিল তেহরান। হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না করে, বরং ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য তা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান—আর সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে বৈরিতা নেই—এমন দেশগুলির জাহাজ হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। এতদিন পর্যন্ত কোন দেশগুলি এই ‘বন্ধুতালিকায়’ রয়েছে, তা স্পষ্ট ছিল না। তবে হঠাৎই পাকিস্তানমুখী একটি জাহাজ আটকে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরেই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এর মধ্যেই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, পাঁচটি দেশকে তারা ‘মিত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তান। মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের উপদূতাবাসের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ নয়—বরং যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কয়েকটি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও জাহাজ চলাচল করতে পারে। এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও এই রুট ব্যবহার করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
তবে এই অনুমতি নিঃশর্ত নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জে দেওয়া বার্তায় ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেসব জাহাজ তাদের শত্রু নয়, শুধুমাত্র তারাই এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি, আগাম সমন্বয়, ইরানের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার শর্তও দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে এই ছাড়পত্রের বাইরে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তেহরান।
এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাণিজ্যিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।US



