সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নবান্ন। বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটাতে অর্থ দফতর চালু করল বিশেষ পোর্টাল, যেখানে ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীরা নিজেদের বকেয়ার হিসাব জমা দিতে শুরু করেছেন। এই উদ্যোগের জেরে কর্মিমহলে জোর আশাবাদ—অর্থবর্ষ শেষের আগেই কি মিলবে প্রথম কিস্তি?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএর হিসাব এই পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) প্রকাশ করেনি রাজ্য সরকার, যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, SOP ছাড়া পুরো প্রক্রিয়া এগোনো কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কারণ বিপুল সংখ্যক কর্মচারীর বকেয়া নির্ধারণ এবং তা মেটাতে যে সময়সীমা আদালত নির্ধারণ করেছে, তা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মার্চ, অর্থবর্ষের শেষ দিনেই প্রথম কিস্তি মেটানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এদিকে, শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীরাই এই পোর্টালে তথ্য আপলোড করতে পারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, এমনকি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার আওতায় থাকলেও তাঁদের জন্য এখনও পোর্টাল খোলা হয়নি বলে দাবি বিভিন্ন সংগঠনের।
বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই বৈষম্য ইচ্ছাকৃত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে সিপিএমের কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি রাজ্যের অর্থসচিবের নজরে আনা হয়েছে।
যদিও শাসক ঘনিষ্ঠ কর্মী সংগঠন আশাবাদী। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন—সব যোগ্য কর্মচারীই ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ পাবেন। পোর্টাল চালু হওয়া সেই প্রক্রিয়ারই সূচনা।



