কটকে ১০১ রানে জয়ের পর মুল্লানপুরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ছন্দ হারাল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার করা ২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দল থেমে গেল ১৬২ রানে। যেই পিচে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখা গেল, সেই পিচে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ ছন্দহীন।
কেন হারের মুখে পড়তে হলো সূর্যকুমার যাদবের দলকে? দেখা যাক ম্যাচের ৫টি বড় কারণ।
১. ওপেনিং ব্যর্থতা—গিল আবারও হতাশ
ওপেনার শুবমন গিল প্রথম ম্যাচে ৪ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও হতাশ করলেন—শূন্য রানে ফিরলেন প্রথম বলেই।
অভিষেক শর্মা আক্রমণাত্মক শুরু করলেও (৮ বলে ১৭), দু’জনের জুটি ভরসা দিতে পারেনি।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনাররা ৩৮ রানের জুটি তৈরি করে ম্যাচের রূপরেখা তৈরি করে দেন। কুইন্টন ডি ককের ৯০ রানের ইনিংস ভারতের ওপেনিং ব্যর্থতার স্পষ্ট বিপরীত ছবি।


২. ফের ব্যর্থ অধিনায়ক সূর্য
ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করেও ফর্মে ফেরার লক্ষণ দেখা গেল না অধিনায়কের ব্যাটে।
সূর্যকুমার যাদব করলেন মাত্র ৫ রান।
ম্যাচের পর তিনি দায় নিলেও, বিশ্বকাপের আগে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলের আত্মবিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।
৩. গম্ভীরের কৌশলী সিদ্ধান্তে প্রশ্ন—অক্ষরকে তিন নম্বরে কেন?
নতুন ব্যাটিং টেমপ্লেট তৈরি করতে গিয়ে গৌতম গম্ভীর অক্ষর প্যাটেলকে পাঠান তিন নম্বরে।
অক্ষর যদিও ২১ বলে ২১ রান করেন, কিন্তু এই অবস্থানে সাধারণত স্থায়ী ব্যাটারদের দেখা যায়।
তাঁকে উপরে পাঠানোর ফলে বাকিদের ব্যাটিং অর্ডারও এক ধাপ নেমে যায়—যা দলের গতি ও রিদমে প্রভাব ফেলে।

৪. বোলিংয়ে বাজে দিন—অর্শদীপ ও বুমরার ছন্দহীনতা
প্রথম ম্যাচে ভারতীয় বোলিংই ম্যাচ জেতার প্রধান কারণ ছিল।
কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা দেখা গেল না।


-
অর্শদীপ সিং: ৪ ওভারে ৫৪ রান
-
জসপ্রিত বুমরা: ৪ ওভারে ৪৫ রান
দু’জনের একটিও উইকেট না পাওয়া ভারতের জন্য বড় ধাক্কা।
অতিরিক্ত রান দিয়ে প্রতিপক্ষকে ২০০-র ওপর পৌঁছে দিতে সাহায্য করে ফেলেন তাঁরা।
৫. হার্দিক পাণ্ডিয়ার অফ-ডে
প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে কার্যকরী ভূমিকা রাখলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ হারালেন হার্দিক পাণ্ডিয়া।
২৩ বলে মাত্র ২০ রান করেন।
বোলিংয়েও উইকেটশূন্য—৩ ওভারে দেন ৩৪ রান।
ভারতের মিডল অর্ডারের ভরসা হার্দিকের এই অফ-ডে চেজকে আরও কঠিন করে দেয়।
মোট কথা, ব্যাটিং ব্যর্থতা, বোলিংয়ের ছন্দ হারানো এবং কৌশলগত পরীক্ষানিরীক্ষা—সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ প্রস্তুত দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে টিকতে পারল না ভারত। সিরিজের পরের ম্যাচে কী পরিবর্তন আনে দল, এখন সেটাই দেখার।







