পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়াল ভারতের নাম। দাবি উঠেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নাকি ভারতের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করছে আমেরিকা। এমনকি দিল্লির অনুমতিতেই ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা ছড়ায়। তবে এই দাবি সামনে আসতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম One America News Network (OAN)-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে আমেরিকা নাকি ভারতের কয়েকটি বন্দর বা নৌঘাঁটি ব্যবহার করছে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা জল্পনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে ভারত মহাসাগরে মার্কিন হামলার মুখে পড়েছে ইরানের একটি রণতরী—এমন খবর সামনে আসায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, ওই অভিযানে কি ভারতের কোনও ভূমিকা রয়েছে?
তবে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আগেই সরাসরি জবাব দিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভারতের কোনও বন্দর বা ভূখণ্ড বিদেশি রাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মন্ত্রকের তরফে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলেও জানানো হয়েছে, ফ্যাক্ট চেক করে দেখা গিয়েছে যে এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো।

কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময় এ ধরনের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনও তথ্য প্রচার করার আগে যথাযথ যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ঘিরে দুবাই, কুয়েত ও ওমান-সহ একাধিক অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছে।
ভারত বরাবরই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে এসেছে। সেই অবস্থান বজায় রেখেই দিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভারতের ভূখণ্ড কোনও বিদেশি সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না।



