নজরবন্দি ব্যুরো: একটা সম্ভাবনা আজ ছিলই, যে, লোকসভার এথিক্স কমিটির প্রস্তাব অনুসারে আজ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যেতে পারে। আর হলও তাই। মাত্র আধ ঘন্টার মধ্যে ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট দেখে, মহুয়াকে কিছু বলতে দিয়ে সেই সিদ্ধান্তও নিয়ে নিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ধ্বনিভোটে পাশ হল সেই প্রস্তাব। আর মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের পর দেখা গেল শুধু তৃণমূল সাংসদরাই নন, আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য নব গঠিত বিজেপি বিরোধী জোট অর্থাৎ ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ওয়াক আউট করলেন সদন থেকে। প্রত্যেকেই বললেন, অন্যায়ভাবে খারিজ করা হয়েছে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ। এখানেই একটা প্রশ্ন আসছে, লোকসভার আগে কি বিরোধীদের হাতে একটা নতুন ‘অস্ত্র’ তুলে দিল মোদী সরকার?
আরও পড়ুন: লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত Mohua Moitra, কী বলছেন Sukanta Majumdar?


চন্দ্রযান সাফল্য, জি-২০ সামিট এবং শেষমেষ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ফলাফলের মধ্যে তিন রাজ্যে বিপুল ভোটে জয়- লোকসভা নির্বাচন যত কাছে আসছে বিরোধীদের সমস্ত ইস্যুতেই যেন জল ঢেলে দিচ্ছে বিজেপি থুড়ি নরেন্দ্র মোদী। এখনও পর্যন্ত বিরোধীদের কাছে মোদী সরকারকে হারিয়ে দেওয়ার মত প্রচারের উপাদানও ছিল না। এদিকে আজ লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হল কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। একটা নেতিবাচক ঘটনা যেন বুস্টার ডোজের মতো বাড়তি এনার্জি সঞ্চারিত করল বিরোধী শিবিরে।

মহুয়া মৈত্র বহিষ্কারের পর যে ছবিটা দেখা গেল তা কিন্তু ‘ইন্ডিয়া’ জোটের জন্য বেশ ইতিবাচক। মহুয়া মূলত তৃণমূল সাংসদ, সে কথা আমরা সবাই জানি। তাই তাঁর ভালো বা খারাপের দায় অনেকটা সে দলের নেতাদেরই ওপরেই বর্তায়। কিন্তু ঘটনাটি ঠিক তা হল না। মহুয়ার সাসপেনশনের প্রতিবাদে কংগ্রেস থেকে শুরু করে সিপিআইএম এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও তৃণমূল নেত্রীর পক্ষ নিতে দেখা গেল।

সদনে মহুয়ার বহিষ্কার প্রসঙ্গে আলোচনার সময়ই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূল নেত্রীর পক্ষ নেন এবং সমালোচনা করেন বিজেপি সাংসদ ও এথিক্স কমিটির প্রস্তাবকে। সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও মহুয়াকে বহিষ্কারের বিরোধিতা করেছেন। শুধু তাই নয় মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হবার পর ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমস্ত সাংসদরা একসঙ্গে সদন থেকে ওয়াক আউট করেন এবং গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সাময়িকভাবে বিক্ষোভ জানান। উত্তরবঙ্গ থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যতা নিয়ে প্রশংসা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


‘অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত মহুয়া’, লোকসভার আগে কি বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল মোদী সরকার?

বিশেষ করে মহুয়ার পাশে ছিলেন সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। আজ যখন লোকসভার বাইরে নিজের বহিষ্কার প্রসঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়ছিলেন মহুয়া, তখন তাঁর ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সনিয়া। পরবর্তীতেও এথিক্স কমিটির সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী। ফলে যে বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিল যে, লোকসভার আগেই ইস্যু খুঁজতে হয়রান বিরোধী গোষ্ঠী। সেখানে কিন্তু ফের একবার একটা ইস্যুর সন্ধান পেলেন তাঁরা। হ্যাঁ, হতে পারে একজন প্রাদেশিক সাংসদের পদ খারিজ নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে পুরোপুরি পাল্টে দেওয়া যাবে না হয়তো, কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে যে আগামী বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে মোদী বিরোধী রাজনৈতিক মহল সরব থাকবেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না।







