টালা ট্যাংক সংস্করণে চারটি পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ন হয়েছে, অন্তিম পর্যায়ের কাজের আগে নেওয়া হবে সাময়িক বিরতি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সংস্করণের পাঁচটি ধাপের মধ্যে কাজ সম্পুর্ন হয়েছে ৮৫ শতাংশ, এবার কঠিনতম পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। টালা ট্যাংক সংস্করণে ১৫ শতাংশ কাজ বাকি। ২০১৩ সালের টালা ট্যাঙ্ক সম্পর্কে খড়্গপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’-র প্রতিনিধি জানিয়েছিল প্রতিটি ধাপের কাজের পরে নজর রাখতে হবে যে মূল কাঠামোয় কোনও রকমের বিচ্যুতি ও ভরের পরিবর্তনের উপর। এবং তা নথিভুক্ত করা ও পাশাপাশি সঠিক ভাবে নজরদারি রাখা প্রয়োজন।

২০১৩ সালের পরিদর্শনে খড়্গপুর আইআইটি সহ শিবপুর আইআইইএসটি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেই পরিদর্শনের পর থেকেই শুরু হয় নজদারির ও নথিভুক্ত করা কাজ। এবং তার উপর ভিত্তি করেই গত তিন বছর ধরে টালা ট্যাঙ্কের সংস্কার চলছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, এই সময় পর্যন্ত টালা ট্যাঙ্ক সংস্কারের ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ চারটি ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। এবার শুরু করা হবে পঞ্চম ধাপের কাজ। কিন্তু শেষ পর্যায়ের কাজ শুরু করার আগে ৬ মাস সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছেন প্রকল্পের প্রধান পরামর্শদাতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা।

টালা ট্যাংক সংস্কার প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান গোকুল মণ্ডল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যতটা কাজ শেষ করা হয়েছে তার মূল্যায়ন করতে হবে। সেই কারণেই বিরতির প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কারের জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তাতে ট্যংকের মূল কাঠামোতে কোন পরিবর্তন এসেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানিয়েছেন গোকুল মণ্ডল। এর পাশাপাশি সংস্কারের পরিকল্পনায় ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়টিও হিসেবে রাখা হয়েছিল কি না তাও দেখা হবে। গোকুল মন্ডল বলেন, সংস্কার চলাকালীন আম্ফান ঘূর্ণিঝড় হওয়া সত্ত্বেও কাঠামোয় তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি, সেদিক থেকে আমরা পাশ করে গেয়েছি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘ভিজ়িটিং ফ্যাকাল্টি’ বিশ্বজিৎ সোম বলেন, ঝালাইয়ের কাজ চলার সময়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ইস্পাতের মধ্যে যত কম সম্ভব হাইড্রোজেন প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ করে নজর দেওয়া হয়েছিল। কারণ, ঝালাই করা স্টিলের মধ্যে হাইড্রোজেনের মাত্রা বেশি হলে তা ভিতর থেকে চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপ ইস্পাতের ধারণ ক্ষমতার বেশি হলে তখনই ফাটল শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে মনিটরিং পর্ব ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ সোম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ‘ওভারহেড’ ট্যাঙ্কটি যাতে আরো অর্ধ শতাব্দী ধরে জল সরবরাহ করে যেতে পারে সে জন্য পঞ্চম ও শেষ পর্যায়ের কাজ শুরুর আগে সাময়িক বিরতির প্রয়োজন আছে বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন