শুক্রবার রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে সন্দেশখালির সরবেরিয়াতে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) আধিকারিকদের। কিন্তু, তারপর থেকেই বেপাত্তা শাহজাহান শেখ! কিন্তু তিনি গেলেন কোথায়? ইডির সন্দেহ, তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ (Shahjahan sheikh) হয়তো বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। শাহজাহানের খোঁজ করতে আইবি এবং বিএসএফের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকাগুলিতে বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন: সন্দেশখালির ঘটনায় নয়া মোড়, রক্তাক্ত ইডির বিরুদ্ধেই FIR পুলিশের!
শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকালে ন্যাজাট থানায় শাহজাহান শেখ (Shahjahan sheikh) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। অন্যদিকে আবার পালটা ইডির বিরুদ্ধে বিনা নোটিসে বাড়িতে ঢুকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে FIR দায়ের করেছে শাহজাহানের পরিবার। পাশাপাশি বসিরহাট পুলিশ তরফে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, সন্দেশখালি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। তবে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে হানা দেয় ইডি (Enforcement Directorate)। যদিও তালাবন্ধ বাড়িতে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেই বাড়ির তালা ভাঙার চেষ্টা করেন গোয়েন্দারা। ঠিক সেই সময়ই শুরু হয় বিক্ষোভ। কয়েক জন স্থানীয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেদের শাহজাহান শেখের (Shahjahan sheikh) অনুগামী বলে পরিচয় গোয়েন্দাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ধাক্কা দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও।

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই কোনও রকমে ঘটনাস্থল ছাড়েন ইডি (Enforcement Directorate) আধিকারিকেরা। তারপরও ইট দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অবরোধ করা হয় রাস্তা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। মাথা ফেটে জখম হওয়া এক আধিকারিককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও দু’জন আধিকারিক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়।
বেপাত্তা শাহজাহান কি বাংলাদেশে? তৃণমূল নেতাকে খুঁজতে একযোগে ময়দানে IB-BSF

সন্দেশখালির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। বিজেপির তরফে এনআইএ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ঘটনাটির। রাজ্যপালের তরফে তলব করা হয়েছে মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিকে। শনিবার আবার, সব জেলাশাসককে ভার্চুয়াল বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা।



