ভারতে নতুন SUV Hyundai Bayon লঞ্চ করল হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া (Hyundai Motor India)। গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৯.৯৯ লক্ষ টাকা। Hyundai Venue ও Creta-র মাঝের জায়গায় নতুন মডেলটিকে রাখা হয়েছে। ১.৫ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন, ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের বিকল্প, ডুয়াল ১২.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লে এবং জেনারেটিভ AI-চালিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট—নতুন SUV-টির প্রধান আকর্ষণ। বুকিং নেওয়া হচ্ছে ১১ হাজার টাকা দিয়ে।
হুন্ডাইয়ের নতুন এই SUV-টি চেন্নাইয়ের কারখানায় তৈরি হচ্ছে। ভারতের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি গাড়িটি বিদেশে রফতানির পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থার। ডিজাইনের দিক থেকে Bayon-এ রয়েছে আলাদা ধরনের সামনের অংশ, স্প্লিট LED লাইট, কালো বডি ক্ল্যাডিং এবং ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল।
Hyundai Bayon-এর দাম ও ভ্যারিয়েন্ট: গাড়িটির প্রাথমিক দাম ৯.৯৯ লক্ষ টাকা এক্স-শোরুম। CarDekho-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট সাতটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে Bayon—HX2, HX3, HX3 Plus, HX5, HX6, HX8 এবং HX10। HX2-এর প্রাথমিক দাম প্রকাশিত হয়েছে। অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলির সম্পূর্ণ দাম প্রকাশের সময় সংশ্লিষ্ট তালিকা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
| ভ্যারিয়েন্ট | পেট্রল ম্যানুয়াল | পেট্রল অটোমেটিক |
|---|---|---|
| HX2 | ₹৯.৯৯ লক্ষ | নেই |
| HX3 | দাম প্রকাশিত নয় | নেই |
| HX3 Plus | দাম প্রকাশিত নয় | নেই |
| HX5 | দাম প্রকাশিত নয় | দাম প্রকাশিত নয় |
| HX6 | দাম প্রকাশিত নয় | দাম প্রকাশিত নয় |
| HX8 | দাম প্রকাশিত নয় | দাম প্রকাশিত নয় |
| HX10 | দাম প্রকাশিত নয় | দাম প্রকাশিত নয় |
সব দাম এক্স-শোরুম। রাজ্যভেদে রোড ট্যাক্স, বিমা ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে অন-রোড দাম বাড়বে।
ডিজাইন ও মাপ: Hyundai Bayon-এর সামনের দিকে সরু LED DRL, বাম্পারে মূল LED হেডল্যাম্প এবং সিলভার স্কিড-প্লেটের মতো ডিজাইন রয়েছে। সামনের আলোয় ইনভার্টেড ‘L’ আকৃতির নকশা নজর কাড়ে। গাড়ির পাশের অংশে মোটা কালো ক্ল্যাডিং, ছাদের রেল এবং ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল দেওয়া হয়েছে। পিছনে রয়েছে একই ধরনের LED টেলল্যাম্প এবং টেলগেটে Bayon লেখা।
গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪,২৪৫ মিমি, প্রস্থ ১,৮১০ মিমি, ছাদের রেল-সহ উচ্চতা ১,৬০৫ মিমি এবং হুইলবেস ২,৬০০ মিমি। বুট স্পেস ৫০৫ লিটার। ফলে পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত কিংবা লম্বা সফরে লাগেজ রাখার ক্ষেত্রে এই জায়গা কাজে লাগতে পারে।
ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স ও মাইলেজ: Hyundai Bayon-এ রয়েছে ১.৫ লিটারের চার সিলিন্ডার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১১৫ PS শক্তি এবং ১৪৪ Nm টর্ক তৈরি করে। এর সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল অথবা IVT অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের বিকল্প রয়েছে। গাড়িটি ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অটোমেটিক সংস্করণের দাবি করা জ্বালানি দক্ষতা ১৮.৬ কিমি প্রতি লিটার। বাস্তবে কত মাইলেজ পাওয়া যাবে, তা রাস্তার পরিস্থিতি, চালানোর ধরন এবং গাড়ির ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে।
সংস্থার তরফে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ফ্যাক্টরি-ফিটেড CNG সংস্করণ আনার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে পেট্রলের পাশাপাশি CNG বিকল্প চাইছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ভবিষ্যতে আরেকটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।
কেবিনে ডুয়াল স্ক্রিন ও AI ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট: গাড়ির কেবিনে রয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১২.৩ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। অর্থাৎ চালকের সামনে এবং সেন্টার কনসোলে বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে থাকছে। ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থায় ওয়্যারলেস Android Auto ও Apple CarPlay-এর সুবিধাও রয়েছে।
Hyundai-এর দাবি, নতুন Bayon-এ জেনারেটিভ AI-ভিত্তিক ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এটি স্বাভাবিক ভাষায় বলা নির্দেশ বুঝতে পারবে এবং ২৩টি আঞ্চলিক ভাষায় ভয়েস কমান্ড সমর্থন করবে। গাড়িতে সংযুক্ত পরিষেবার জন্য Hyundai Bluelink-ও রয়েছে।
উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে প্যানোরামিক সানরুফ, আট-ভাবে বৈদ্যুতিকভাবে সামঞ্জস্য করা যায় এমন চালকের আসন, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, আট-স্পিকারের Bose সাউন্ড সিস্টেম, অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, ড্রাইভ মোড, সামনের ভেন্টিলেটেড আসন এবং অটো-ডিমিং IRVM-এর মতো ফিচার পাওয়া যায়।
নিরাপত্তায় কী থাকছে? Hyundai Bayon-এ ছ’টি এয়ারব্যাগ, Level 2 ADAS, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, চার চাকায় ডিস্ক ব্রেক, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং সামনে-পিছনে পার্কিং সেন্সর রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
গাড়িটি Global K Enhanced Platform-এর উপর তৈরি। সংস্থার দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম ভারতীয় ক্র্যাশ-সেফটি মানের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে। তবে গাড়িটির Bharat NCAP পরীক্ষার ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিরাপত্তা রেটিং নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
Hyundai Bayon কাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়? ভারতে Bayon-কে Creta-র নিচে জায়গা দিয়েছে Hyundai। এর ফলে ক্রেতারা Creta-র তুলনায় কম দামের SUV খুঁজলে Bayon বিবেচনা করতে পারেন। বাজারে Maruti Suzuki Victoris-সহ একাধিক SUV-র সঙ্গে এর প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।
দাম, ইঞ্জিনের বিকল্প, কেবিনের প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা-ফিচার—এই চারটি বিষয় গাড়িটি কেনার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক সম্পূর্ণ দাম, অন-রোড খরচ এবং বাস্তব মাইলেজ যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।



