‘BJP-র সঙ্গে ১০০০ কোটির ডিল’! হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিস্ফোরক ভিডিও, কী রয়েছে সেখানে?

হুমায়ুন কবীরের কথোপকথনের ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, বিজেপির সঙ্গে ‘১০০০ কোটি টাকার চুক্তি’ অভিযোগ তুলে ভোটের আগে তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ—এক ‘গোপন’ ভিডিও ঘিরে উঠল তীব্র বিতর্ক। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির ‘১০০০ কোটি টাকার চুক্তি’ নিয়ে অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল। প্রকাশ্যে আসা ওই কথোপকথনে ধর্মীয় মেরুকরণ, ভোট কৌশল এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ হঠাৎ করেই চড়ে গিয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরের একটি কথোপকথনের ভিডিও তাদের হাতে এসেছে, যেখানে হুমায়ুন কবীরকে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করছেন, রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ তাঁর প্রভাবাধীন এবং সেই সমীকরণকে ব্যবহার করেই ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করা সম্ভব।

কথোপকথনের একাধিক অংশে উঠে এসেছে ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির প্রসঙ্গ। সেখানে হুমায়ুন দাবি করেন, মুসলিম ভোট তাঁর দিকে গেলে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু ভোট বিজেপির দিকে সরে যাবে—যা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে তাকে সমর্থন করতেও আপত্তি নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দাবি।

ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এই সমস্ত দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আনতেই তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ‘বি’ এবং ‘সি’ টিম তৈরি করে ভোট ভাগের রাজনীতি করছে। তাঁর দাবি, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে বিভক্ত করার লক্ষ্যেই হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ভোট কেনাবেচার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “ধর্মের নামে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” পাশাপাশি তিনি মুসলিম সমাজের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে তারা কী অবস্থান নেবে।

মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ভোটের আগেই বিজেপি পরাজয় মেনে নিয়েছে বলেই এমন কৌশল নিচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এই ধরনের ‘টাকার খেলা’ বা ভোট বিভাজনের রাজনীতি মেনে নেবে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নারদ বা সন্দেশখালির মতো স্টিং অপারেশন বড়সড় প্রভাব ফেলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন এই ভিডিও সামনে আসায় নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন