নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষকে বেনিয়মের অভিযোগ উঠতেই ২৬৮ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে ৫৪ জনের বক্তব্য শুনেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার চাকরি বাঁচানোর শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল ৮৮ জন। বৃহস্পতিবার ৮৮ জন হলফনামা জমা দিলেন। ৮৮ জনের মধ্যে আর কতজন চাকরি হারাবেন? হলফনামা জমা দিতেই উঠছে প্রশ্ন।


এর আগে এই মামলায় ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২৬৯ জন চাকরি হারানো শিক্ষকদের হাইকোর্টে বক্তব্য পেশ করার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ৫৪ জন হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৫৪ জনের চাকরি বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে একজনকে ১০ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। এখন ৮৮ জনের মধ্যে কত জনের চাকরি বাতিল হবে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে যারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হননি তাঁদের নিয়েও। মোট ১৪২ জনের হলফনামা আদালতে জমা পড়লেও কেন বাকিদের হলফনামা পড়ল না? সেনিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। তবে কী দুর্নীতির কোপে তাঁদের চাকরি যেতে চলেছে?
বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। দুর্নীতি দেখতে পেয়েই ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। বলা হয়েছিল, তদন্ত না হওয়া অবধি এই রায় বহাল থাকবে। এর পর মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কেই পুনরায় বহাল করে হাইকোর্ট। পরবর্তীকালে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।



কর্ম্রত শিক্ষকদের বক্তব্য ছিল, চার বছরের সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন তাঁরা। চাকরি বাতিলের পর তাঁদের মামলায় পার্টি করা হয়নি। অর্থাৎ, তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কর্মরত শিক্ষকরা। পরে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের কথা শুনবে আদালত। একইসঙ্গে কী কারণে চাকরি বাতিল? তা জানাতে হবে আদালতকে।
আর কতজন চাকরি হারাবেন? উঠছে প্রশ্ন

উল্লেখ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখন জেলে রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলে রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গোটা নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ ও মানিকের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এখন কতজনের চাকরি যায়? আগামী সপ্তাহের শুনানিতে সেটাই দেখার।







