নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভূমিধসের ধাক্কায় তিন প্রজন্ম শেষ। বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হিমাচলে মৃত কমপক্ষে ৮০। রবিবার রাত থেকে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ধসের জেরে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশের জনজীবন। ভারী বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি এবং ধসের কারণে হিমাচল প্রদেশে মারা গিয়েছেন অন্তত ৭১ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৮। শিমলায় ধসের কারণে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। হিমাচলের মুখ্যসচিব ওঙ্কারচাঁদ শর্মা গতকাল পিটিআইকে বলেন, “গত তিন দিনে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৩ জন নিখোঁজ। রবিবার রাত পর্যন্ত ৫৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ SSC নিয়োগ দুর্নীতি, কারা চাকরি পাবে তা অনুমোদন দিতেন পার্থ, বিস্ফোরক অভিযোগ করলো CBI


খবর পাওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু।ধসপ্রবণ এলাকায় ঘরবাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধসের কারণে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মেরামতের দায়িত্ব সরকার নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার ধস নামার কারণে কালকা থেকে শিমলা যাওয়ার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিগত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হিমাচল প্রদেশের শিমলা, কাংড়া এবং মান্ডি জেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি, বদ্রীনাথ, কেদারনাথ যাওয়ার রাস্তাও ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সূত্রে খবর, হিমাচল প্রদেশের বহু জায়গায় পর্যটক এবং স্থানীয়েরা আটকে রয়েছেন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মোট ২৯টি দলকে মোতায়েন করা হয়েছে।



আপৎকালীন পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বাকি ১৫টি দলও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং স্থানীয় প্রশাসনও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। হেলিকপ্টার এবং মোটর বোটের মাধ্যমেও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর।
ভূমিধসের ধাক্কায় তিন প্রজন্ম শেষ, বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। মৃত অন্তত ৮০

গত সোমবার স্ত্রী, পুত্র, নাতি, নাতনিদের নিয়ে শিমলার সামার হিলের শিব বাওয়ারি মন্দিরে এসেছিলেন জনৈক পবন। মন্দিরে পুজো করার সময়ই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ধসে যায় মন্দিরের একাংশ। সেই ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়ে পবনের পরিবারের তিন প্রজন্মও। পুজো করতে এসে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁদের। তার পর থেকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছেন পবনের ভাই বিনোদ। দাদার পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেহ উদ্ধার করা গেলেও এখনও দু’জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।








