নজরবন্দি ব্যুরোঃ মাটিয়া গণধর্ষণকাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টের। ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং উপযুক্ত আর্থিক সাহায্যের দাবিতে দায়ের হল মামলা। বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার আবেদন জানানো হয়।
আরও পড়ুনঃ সিবিআই জেরার মুখে বীরভূম পুলিশ সুপার, পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সিবিআই
এই জনস্বার্থ মামলার আবেদন করেছেন আইনজীবী সুমিত্রা নিয়োগী। আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। বসিরহাটে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিগ্রহ করা হয়েছে। আইনজীবীর মতে, এই ঘটনা দিল্লির নির্ভয়াকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুমিত্রা। সেজন্য আদালতের তত্ত্বাবধানে ঘটনার তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, নির্যাতিতাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই মূহুর্তে কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও, সম্পূর্ণ বিপদ কাটেনি তাঁর।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ওই কিশোরী এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানেই স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে গণধর্ষণ (Matia Gang Rape) করে। পরদিন ভোরে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়।
মাটিয়া ধর্ষণকাণ্ড রাজ্য-দেশ তোলপাড় হয়েছে। ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় কলকাতা থেকে ফরেনসিক টিম পৌঁছাল ঘটনাস্থলে। আধিকারিক অভিজিৎ মন্ডলের নেতৃত্বে এদিন চার প্রতিনিধি দল পৌঁছায় মাটিয়াতে। সেখানে থেকে পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র তাপস ঘোষের নেতৃত্বে বিবেক নগর কলুতলা ঘটনাস্থলে যান।
জানা গিয়েছে, সেখানে গিয়ে প্রায় একঘন্টা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন, প্রথমে পুরো এলাকা টাকে চিহ্নিত পাশাপাশি একটি ভিডিওগ্রাফি করেন। নিজেরা তারপর সেখানে একদিকে আতস কাঁচ দিয়ে রক্তের নমুনা ও মাটি খুঁজে বের করে সেগুলো সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি নির্যাতিতা গ্রাম নেহালপুর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিন এই ঘটনার মূল পাণ্ডা পিসি রোজিনা বিবির বোন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যে অন্যায় করেছে ধরা পড়েছে, একটা মেয়ে হয়ে কিভাবে একটা ছোট শিশুর নির্যাতনের ঘটনা পরিকল্পনা করল। দিদির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এই ধরনের ঘটনা যেন আর কোন দিন কেউ যাতে না ঘটতে পারে।’ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানা এলাকায়।
শুক্রবার সকালে একটি পার্কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে ওই নাবালিকাকে। পুলিশ ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানেই জানা যায়, ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে ওই নাবালিকাকে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
মাটিয়া গণধর্ষণকাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হাইকোর্টের, ঘটনাস্থলে পৌঁছাল চার সদস্যের ফরেনসিক দল

ইতিমধ্যেই মাটিয়া কাণ্ডের ঘটনায় ওই নাবালিকার প্রেমিক ও নির্যাতিতার পিসিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বসিরহাট মহকুমা আদালত অভিযুক্তদের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।



