বিরোধী রাজনীতি দমন নয়, আইনের শাসনই শেষ কথা—এই বার্তা দিয়েই রাজ্য ও কলকাতা পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলের বিধায়ক, সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কর্মসূচিতেও যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে—সোমবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল আদালত। আপাতত ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বিরোধী নেতাদের কর্মসূচি, কনভয় বা সভায় কোনও ধরনের বাধা, হিংসা বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ—দু’পক্ষকেই সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।


এই নির্দেশের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যের মুখ্য বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির-র জনপ্রতিনিধি ও সমর্থকদের কর্মসূচিতে নিয়মিত বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিশকে আগাম জানানো সত্ত্বেও হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের তীর শাসকদলের সমর্থকদের দিকেও।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ও তার পরবর্তী পর্বেও বিরোধী নেতাদের উপর হামলার একাধিক নজির রয়েছে, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে। সেই মামলাতেই সোমবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—বিরোধীদের কর্মসূচিতে নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।









