‘প্রহসনের ভোট’ বলে কটাক্ষ হাসিনার, কম ভোটে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

কম ভোটার উপস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেন শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তুললেন কারচুপির অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সরাসরি ‘প্রহসনের ভোট’ বলে আখ্যা দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোটের কম উপস্থিতির পরিসংখ্যান সামনে এনে তিনি দাবি করেছেন, দেশবাসী এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ভোট বর্জনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২,৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে হাসিনার দাবি, জনগণ ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ সরকারের অধীনে হওয়া এই ভোটকে গ্রহণ করেনি।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হাসিনা লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে হওয়া এই নির্বাচন ছিল একটি ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ভোট আয়োজন করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে অবমাননা করা হয়েছে।

শুধু ভোট বর্জনের কথাই নয়, নির্বাচনে হিংসা, ভোট কেনাবেচা ও কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। হাসিনার দাবি, ভোটের আগের সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, টাকা বিলিয়ে ভোট কেনা এবং ব্যালটে সিল মারার মতো ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, শুক্রবার সকাল থেকেই বহু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ভোটকেন্দ্র ‘প্রায় ফাঁকা’ ছিল বলেও তাঁর অভিযোগ।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্জন করেছে।

ভোটের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। অথচ তার এক ঘণ্টা পরে সেই হার বেড়ে ৩২.৮৮ শতাংশে পৌঁছয়—যা ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

হাসিনার অভিযোগ, দলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং গত কয়েক দিনে তাঁদের উপর হামলাও চালানো হয়েছে। সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করেই মানুষ এই নির্বাচন বর্জন করেছে বলে তাঁর দাবি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন