গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নাছোড় ট্রাম্প, শুল্ক চাপানো হবেই! বাণিজ্যযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে আমেরিকাকে সতর্ক করল ব্রিটেন

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের উপর শুল্ক চাপাতে অনড় ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্যযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে আমেরিকাকে প্রকাশ্যে সতর্ক করল ব্রিটেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে একচুলও নরম হতে রাজি নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের উপর শুল্ক চাপানো হোক বা কূটনৈতিক চাপ—সব অস্ত্রই কাজে লাগাতে প্রস্তুত আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। ‘রুশ আগ্রাসনের আশঙ্কা’কে সামনে রেখে এবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আরও একধাপ এগোলেন তিনি। কিন্তু এই একগুঁয়েমির ফল যে ভয়াবহ বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বিশ্বকে, সেই সতর্কবার্তাই এবার স্পষ্ট ভাষায় দিল ব্রিটেন।

সোমবার ইউরোপীয় দেশগুলির উদ্দেশে আবারও ‘ট্যারিফ বাণ’-এর হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপ যদি অবস্থান না বদলায়, তবে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসবে না ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো বহু বছর ধরেই ডেনমার্ককে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে সতর্ক করে এসেছে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে কোপেনহেগেন। এই প্রেক্ষিতেই রহস্যময় হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এবার সময় এসে গিয়েছে…”—কিসের সময়, তা তিনি স্পষ্ট না করলেও আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের দিকেও এগোতে পারে আমেরিকা?

এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকাকে প্রকাশ্যে সতর্ক করে দিল ব্রিটেন। কিয়ের স্টার্মার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বন্ধুরাষ্ট্রগুলির উপর শুল্ক চাপিয়ে মতবিরোধ মেটানো কোনও সমাধান হতে পারে না।

সোমবার লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া বক্তৃতায় স্টার্মার বলেন, “বাণিজ্যযুদ্ধের পরিণাম কোনও দেশের জন্যই ভাল হয় না। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।” তিনি আমেরিকাকে বাস্তবভিত্তিক ও দায়িত্বশীল কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। যদি আমেরিকার দাবি মানা না হয়, তবে ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বেড়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, শুল্ক যুদ্ধের হুমকি ও সামরিক জল্পনা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে ট্রাম্পের এই অবস্থান। প্রশ্ন একটাই—এই শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতির শেষ পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন