নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে নিয়োগ বিষোয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই শিক্ষামন্ত্রী এখন জেল হেফাজতে। এদিকে আন্দোলন ৫৩৫ দিন পার করল। এরই মধ্যে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন চাকরি প্রার্থীরা। কথা বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে। তবুও নিয়োগ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক কোনও সাড়া মেলেনি। এখন হবু শিক্ষকদের বক্তব্য জীবন নিয়ে খেলা চলছে।
আরও পড়ুনঃ Burdwan: বর্ধমানের ঘটনায় গ্রেফতার ৪৬, পথে নামছে বামেরা, পাল্টা মিছিলে তৃণমূল


বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে দুর্গাপূজোর উদযাপন নিয়ে বিরাট মিছিল করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেডরোডে সরকারের তরফে বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছু দূরেই এখনও চাকরির অপেক্ষায় দিন কাটাতে হচ্ছে চাকরি প্রার্থীদের। বারবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিয়োগের কথা বলে হলেও বাস্তবের মাটিতে তা ফলপ্রসূ হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর হবু শিক্ষকরা গান্ধীমূর্তির পাদদেশে বুকভরা যন্ত্রণায় ফটফট করছে। ক্রমাগত তাঁদের যন্ত্রণাময় জীবনের কথা চাপা পড়ে যাচ্ছে। কবে তাদের এই যন্ত্রণার অবসান হবে? কবে তারা তাদের ন্যায্য চাকরি ফিরে পাবেন? কবে তারা কলকাতার বুক থেকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন? ৫৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও তাদের প্রতি মানবিকতা দেখায়নি সরকার। জরুরীকালীন হস্তক্ষেপ করেও কি তাদের সমস্যার সমাধান করা যেত না? প্রশ্ন একগুচ্ছ কিন্তু উওর দেবে কে?

চাকরি প্রার্থীদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের প্রথম এসএলএসটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাধিক ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতির শিকার হবু শিক্ষকরা। হাইকোর্টে শিক্ষক নিয়োগের মামলায় একাধিক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে। যারা দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের সমস্যা সমাধানের কোনো রকম পথ বের করার জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন, সরকার, হাইকোর্ট কোন পক্ষের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। তিলে তিলে শেষ হচ্ছে বঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের জীবন। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে দিনের পর দিন চোখের জল ফেলা ছাড়া বঞ্চিত ধর্ণারত শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের আর কোনো উপায় নেই।



কবে সরকার এবং হাইকোর্ট এদের প্রতি মানবিক হবে? কবে তাদের ন্যায্য চাকরি ফিরিয়ে দিতে উভয় পক্ষ একমত হবে? অপেক্ষায় রয়েছেন বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীগণগণ। স্কুল সার্ভিস কমিশনের তথ্য সংক্রান্ত ঘর বন্ধ থাকার কারণে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের বিষয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে দ্রুত কমিশন তথ্য সংক্রান্ত ঘর খুলে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন করবেন এমনটাই বিশেষ সূত্রে খবর।
জীবন নিয়ে খেলা চলছে, অভিযোগ চাকরি প্রার্থীদের

যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো-অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল জানিয়েছেন, বঞ্চিত শিক্ষক- শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের ধর্ণার ৫৩৫ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। বুকভরা যন্ত্রণা আর চোখের জল নিয়ে তারা গান্ধীমূর্তির পাদদেশে দিনের পর দিন ধর্ণায় বসে রয়েছেন। এবার অন্তত সমস্যার সমাধান করতে মহামান্য হাইকোর্ট এবং সরকার একমত হয়ে মানবিকতার সাথে নবম – দ্বাদশের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরিতে নিয়োগ না পাওয়া সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের অতি দ্রুত চাকরিতে নিয়োগের সুব্যবস্হা করুন। আমাদের জীবন থেকে বিগত মূল্যবান ছয়টি বছর চলে গিয়েছে। বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের অধিকাংশই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। এদের ন্যায্য অধিকার অতি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক।







