প্রবল চাপের মুখে নতিস্বীকার, অবশেষে ভ্যাক্সিনের দামে সাম্যতা আনতে পদক্ষেপ কেন্দ্রের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রবল চাপের মুখে নতিস্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধিদের প্রবল চাপের মুখে পিছু হটল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে সেরাম এবং ভারত বায়োটেক কে চিঠি দিয়ে দাম কমাতে অনুরোধ করা হয়েছে কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড টিকার। কদিন আগেই কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় আগামী ১ মে থেকে ১৮ উর্ধ্ব ব্যক্তিদেরও টিকা দেওয়া যাবে, এবং এবার থেকে ভ্যাকসিন খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারবে প্রস্তুতকারী সংস্থারা। পাশাপাশি রাজ্যসরকার সরাসরি ভ্যাকসিন কিনে জনগনকে দিতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন মোদী, তুলোধনা বিদেশী সংবাদমাধ্যমে।

কেন্দ্রের ঘোষণার পরেই সেরাম কর্তা আদল পুনওয়ালা একই ভ্যাকসিনের ৩ রকম দাম ঘোষনা করেন। সেরামের পক্ষ থেকে বলা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার কে তাঁরা ভ্যাকসিন দেবে ডোজ পিছু ১৫০ টাকা। কিন্তু সেই একই ভ্যাকসিনের জন্যে রাজ্য সরকার কে দিতে হবে ৪০০ টাকা। এখানেই শেষ নয়, আদর কঠোর ভাবে জানান বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর জন্যে ডোজ পিছু দাম ধার্য করা হয়েছে ৬০০ টাকা। এই ঘোষণার পরেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। চিঠি দিয়ে মমতা এবং সোনিয়া প্রতিবাদ জানান মোদীকে।

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে লেখেন, প্রশ্ন তোলেন, “কেন এভাবে একই ভ্যাকসিনের দাম তিন রকম ধার্য করা হচ্ছে? সরকার কিভাবে এই দামের ক্ষেত্রে অনুমোদন দিচ্ছে?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, কেন কেন্দ্রের তুলনায় ভ্যাকসিনের ডোজ পিছু রাজ্য সরকারগুলিকে ১৬৭ শতাংশ বেশি দাম দিতে হবে? এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো এবং গরিব বিরোধী বলে আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে সেরামের পর ভারত বায়োটেকের তৈরি দেশি করোনার টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ এর দাম ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, এই টিকা রাজ্য সরকারের খরচ পড়বে ডোজ প্রতি ৬০০ টাকা।  রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে এক একটি ডোজের দাম ধার্য করা হয়েছে ১২০০ টাকা! যদিও টিকা ভারতসরকার কে ১৫০ টাকাতেই দেবে বলা জানায় ভারত বায়োটেক।

এরপর আজ সকালে সাংবাদিক বৈঠক করেন দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নির্মাতাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাপ্পড় মারার মত করে কেজরি হিসেব দেন, কেন্দ্রকে যদি ভ্যাকসিন নির্মাতারা ১৫০টাকা ডোজ পিছু দিয়ে রোজগার করতে পারে তাহলে রাজ্যের ক্ষেত্রে সেটা ১৬৭-২০০ শতাংশ বেশি দাম কেন? দেশে যখন মড়কের পরিস্থিতি তখন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থাদের এহেন ব্যাবসা করতে দেওয়ার অনুমতিই বা দিচ্ছে কিভাবে কেন্দ্র? কেজরির পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল… লাভের টাকা হয়তো অন্য কোথাও ভাগাভাগি হবে! যদিও সেকথা স্পষ্ট না করে কেজরিওয়াল নিজের স্টাইলে নরেন্দ্র মোদী এবং ভ্যাকসিন নির্মাতাদের বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন এই অতিমারিতে মানবদরদী ভূমিকা নিতে!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন