দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন মোদী, তুলোধনা বিদেশী সংবাদমাধ্যমে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিলেন নরেন্দ্র মোদী, প্রধানমন্ত্রীকে তুলোধনা করল অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সংবাদপত্র। ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ নামক খবরের কাগজ বলছে, “একজন ভিড়প্রেমী প্রধানমন্ত্রী  যিনি তাঁর নির্বাচনী জনসভায় জমায়েত দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এমন একটা সময়ে যখন তাঁর দেশের মানুষ অক্সিজেন না পেয়ে হাঁসফাঁস করছে! নেতার এই অমাবিকতার সাথে মিলেছে ঔদ্ধত্য, উগ্র-জাতীয়তাবাদিতা, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা। সব মিলে ভারতে একটা ঘোর সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ বাংলায় কার্ফু, বাড়িতে মাস্ক পরার সময় এসেছে, নবান্নে চিঠি কেন্দ্রের।

কিন্তু কেন এমন সমালচনা করল এই সংবাদপত্র? উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজ্যের একটি নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে মোদী আপ্লুত হয়ে হয়ে বলে ফেলেনন, এত ভিড় তিনি কখনও দেখেননি। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের ব্যাখ্যা, যখন মোদী তাঁর ভক্ত-সমর্থকদের নিয়ে আনন্দ করছেন তখন দেশের বিভিন্ন অংশে করোনার কবলে পড়ে মরছেন মানুষ।

উল্লেখ্য, দেশের মধ্যেও নরেন্দ্র মোদী সমালোচিত হয়েছেন সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট না মানার জন্যে। গত বছরের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদব। বৈঠকে তিনি অক্সিজেন সিলিন্ডারের মূল্য হ্রাসের পক্ষে সওয়াল করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি সওয়াল করেন, অক্সিজেনের যোগান বাড়ানো এবং অক্সিজেনের ওপরে কর হ্রাস করে দাম কমানোর ব্যাপারে। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, দাম কমালে করোনা চিকিত্‍সা বাবদ খরচ কমবে।

পাশাপাশি, করোনা চিকিত্‍সায় ব্যবহৃত ওষুধপত্রের দাম বেঁধে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে কেন্দ্রীয় সরকার কে অনুরোধ করেন তিনি। এই কোন ব্যাখাই উপযুক্ত মনে করেনি সরকার। মোদী সরকারের ধারণা ছিল, করোনা কাল সমাপ্ত হয়েছে! তখন, রামগোপালের নেতৃত্বাধীন কমিটি রিপোর্ট দিয়ে কেন্দ্রকে জানায়। করোনাকাল সমাপ্ত হওয়ার এখন কোন সম্ভাবনা নেই। পাঁচমাস আগে যখন ভারতে করোনা পরিস্থিতি যখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। তখন বিশেষজ্ঞরা ব্রিটেন সহ কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরে কেন্দ্রকে সতর্ক করে।

রিপোর্টে বলা হয়, এদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসা সময়ের অপেক্ষা। তাই হাতে সময় থাকতে দ্রুত ভ্যাকসিনেশনের পাশাপাশি অক্সিজেন ও ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমানে মজুত রাখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলির চাহিদা অনুসারে যাতে অক্সিজেন পর্যাপ্ত জোগান দেওয়া যায়, তার জন্য অক্সিজেনের উত্‍পাদন বাড়াতে হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর