নজরবন্দি ব্যুরোঃ সরকারি টাকা বিনোদনের জন্যে নয়, রাজ্য সরকার কে নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের। ৫০ হাজার টাকা পুজো কমিটিকে দান নিয়ে হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের অনুদান দেওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা হয়েছিল আজ তার রায় ঘোষণা হল। আদালত পরিষ্কার করে জানিয়েছে জনগনের করের টাকা বিনোদনে খরচ করা যায় না। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে কোথায় কিভাবে ওই টাকা খরচ হল তা হলনামার আকারে জমা দিতে হবে রাজ্য সরকার কে। টাকা খরচ করা গাইড লাইনও দিয়ে ছে হাইকোর্ট।
আরও পড়ুনঃ বাধা করোনা, তাই ম্যাডক্স স্কোয়ারে এবার হবেনা পুজোর আড্ডা!
সরকারি টাকা বিনোদনের জন্যে নয়, রাজ্য সরকার কে নজিরবিহীন নির্দেশ হাইকোর্টের। আজ রায়ে আদালত স্পষ্ট বলে দিয়েছে, কোনও পুজো কমিটি ওই টাকা বিনোদনের জন্য খরচ করতে পারবে না। সরকারি অনুদানের পঞ্চাশ হাজার টাকার ৭৫ শতাংশ খরচ করতে হবে মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনতে। বাকি টাকা খরচ করতে হবে পুলিশের মাধ্যমে জনসংযোগমূলক কাজে।
পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকে বিল-ভাউচার সহ খরচের হিসেব দিতে হবে স্থানীয় থানায়। সেই সব বিল ভাউচার জমা নিয়ে পুলিশ সেই হিসেব দেবে রাজ্য সরকারকে। তারপর রাজ্য সরকার সেই রিপোর্ট হলফনামা আকারে জমা দেবে আদালতে। সাথে আদালতের নির্দেশ যাতে পুজো কমিটিগুলির বুঝতে অসুবিধা না হয় তাই আদালত যা যা নির্দেশ দিল তা পয়েন্ট আকারে লিফলেট ছাপিয়ে পুজো কমিটিগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে হবে প্রশাসন কে।
উল্লেখ্য কদিন আগে কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন পুজো কমিটিকে নির্দেশ দেন কিকি ব্যবস্থা রাখতে হবে পুজো মণ্ডপে। পাশাপাশি জানিয়ে দেন দর্শনার্থীদের জন্যেও বিধি। তিনি বলেন, খোলামেলা মণ্ডপ, প্রতিমার মাথায় চালা থাকবে। চারপাশ ঘিরতে হলে মাথা খোলা রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
মণ্ডপে হাফ কিলোমিটারের মধ্যে আসা মানুষের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক পরতেই হবে। পুজো উদ্যোক্তাদেরও মণ্ডপে মাস্ক ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ফেসশিল্ডের ব্যাবস্থা করতে হবে। অঞ্জলি সকলে একসঙ্গে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে মাইকে মন্ত্রোচ্চারণ করে অঞ্জলি দিন। ভোগ বিতরণেও খেয়াল রাখতে হবে। সিঁদুর খেলার সময় ভেঙে নিতে নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে সকলে সিঁদুর খেলা নয়। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, পুজোয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী পুজো কমিটিগুলোর জন্যে রাজ্য সরকারের তরফে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের টাকা নেই পয়সা নেই সেটা ঠিক। কিন্তু আমি জানি পুজো কমিটিগুলো খুব প্রবলেমে রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে একটা স্বল্প দান তো আমরা দিই। যদিও এটা দান নয় ভালবাসা। এবার যেহেতু আপনাদের সমস্যা একটু বেশি রয়েছে। এ বার রাজ্য সরকার ৫০ হাজার টাকা করে দেবে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে”। সাথেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুজো কমিটিগুলো খুব আর্থিক সংকটে রয়েছে তাই এ বছর দমকলকে কোনও ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি পুরসভাও ফি নেবে না। এমনকি সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদও বিদ্যুৎ মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেবে!



