নজরবন্দি ব্যুরোঃ মধ্যরাতে চাকরি প্রার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ। দীর্ঘ অনশনের পরেও বিন্দুমাত্র নমনীয় হল না পর্ষদ। এরপর চাকরি প্রার্থীদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে পথে নামল বাম ছাত্র-যুবরা। সেই ঘটনার পরেই এবার গর্জে উঠলেন সিপি(আই)এমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। জন্তুর মতো আক্রমণ করছে সরকার, দাবি করলেন বিকাশ।
আরও পড়ুনঃ TET Appointment: হবু শিক্ষকদের দাবিকে মান্যতা দিল না পর্ষদ, জারি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বর্ষীয়ান বাম নেতা বলেন, সরকার ভয় পাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রীরা ভয় পাচ্ছেন। প্রশাসনের মাথা যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাঁরাও ভয় পাচ্ছেন। তাঁদের সম্মিলিত ভয়ের আত্মপ্রকাশ হচ্ছে এরকমভাবে আক্রমণ করা। কোনও জন্তু যখন ভয় পেয়ে যায় তখন সে আক্রমণ করে। এটাই নিয়ম প্রকৃতির নিয়ম। সেজন্যই ওরা আক্রমণ করবে স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, আমরা গোটা সমাজের সমস্ত সুস্থ মানুষদের এক জায়গায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। তাঁদের জন্য নয়, তাঁদের প্রজন্মের জন্যে। যাতে ভবিষ্যতের প্রজন্ম মাথা স্বাচ্ছন্দে দাঁড়াতে পারে, সেই চেষ্টাই আমাদের সকলকে করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সরকারের দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। এখন আর নতুন করে ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণ করতে নারাজ। এই দাবি নিয়ে সোমবার থেকে সল্টলেকের করুণাময়ীতে লাগাতার আন্দোলনও অনশন চালিয়ে যান চাকরি প্রার্থীরা। চাকরি প্রার্থীদের কারণে পর্ষদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। একথা জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় পর্ষদ। পর্ষদ ভবনের চারপাশে ১৪৪ ধারা ল্গু করার নির্দেশ দেয় আদালত।
জন্তুর মতো আক্রমণ করছে সরকার, বিকাশের বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য

এরপর সন্ধ্যে থেকেই টেট পাশ নট ইনক্লুডেড চাকরি প্রার্থীদের ধর্নামঞ্চ ঘিরে বাড়তে শুরু করে পুলিশের তৎপরতা। মধ্যরাতে অনশনরত চাকরি প্রার্থীদের টেনে হিঁচড়ে আবার কখনও চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার দুপুরেও আন্দোলনে শামিল ছাত্র যুব নেতৃত্ব। তাঁদের আটক করে পুলিশ। শুধুমাত্র শহর কলকাতা নয়, আগামী দিনে জেলায় জেলায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায় বাম নেতৃত্ব। আগামীকাল ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে বিরাট সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে বামেদের তরফে।



