বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেক জায়ান্ট গুগল আবারও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অবদান। একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গুগল তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোর জন্য আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করছে, আর এই খরচ সামলাতেই কর্মী সংকোচনের পথে হাঁটছে।
গুগল গত দুই বছর ধরেই একাধিক বার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যার জন্য সংস্থাটি নানা রকম সমালোচনার মুখে পড়েছে। এবারও আবার কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সামনে আসতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খরচ কমানোর উদ্যোগ
গুগল, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেক কোম্পানি, তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ইনভেস্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। তবে এই প্রচেষ্টা সামলাতে গিয়ে সংস্থাটি অন্যান্য খাতে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, কর্মী সংকোচনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুগলের ‘পিপলস অপারেশনস ডিভিশন’ এবং ‘ক্লাউড ডিভিশন’—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেই কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ও প্রক্রিয়া
গুগল অফিসের ‘পিপলস অপারেশনস ডিভিশন’-এ বহু কর্মীকে স্বেচ্ছাবসরে যেতে বলা হয়েছে। এই কর্মীরা মার্চের প্রথম দিকেই সংস্থা ছেড়ে চলে যাবেন। এমনকি, সিনিয়র স্তরের কর্মীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজও প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১৪ সপ্তাহের বেতনের মতো অফারও রয়েছে।
‘ক্লাউড ডিভিশন’-এও কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে গুগল অন্য খাতে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। গত বছরেও গুগল এক হাজারেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু কর্মীকে জানানো হয়েছিল যে, এই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলকভাবে নেওয়া হয়েছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিণতি ও ভবিষ্যত
গুগলের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন অর্থনৈতিক কারণে, তেমনি অন্যদিকে এটি কোম্পানির AI ও প্রযুক্তিগত নীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। গুগল কর্মী সংকোচনের মাধ্যমে তার অপারেশনাল খরচ কমানোর চেষ্টা করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করা যায়।
এছাড়া, গুগল যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে তাতে কর্মীদের জন্য বিশেষ অফারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যা কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে। তবে এই পরিস্থিতি কোম্পানির জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোন উপকারে আসবে, তা সময়ই বলবে।



