২৪ অক্টোবর, ২০২৫: দীপাবলির উচ্ছ্বাস কাটতে না কাটতেই সোনার বাজারে দেখা দিল নতুন চমক। ধনতেরস (Dhanteras 2025)-এর আগে টানা বৃদ্ধি পেয়েছিল সোনার দাম (Gold Price)। কিন্তু উৎসবের দিনেই দাম কমে গিয়েছিল, এবং দীপাবলির (Diwali 2025) সময় আরও বড় পতন দেখা যায়। স্পট গোল্ড রেট (Spot Gold Rate) ৪০০০ টাকার বেশি কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বুধবারও সেই পতনের ধারা অব্যাহত ছিল। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে এক অনিশ্চয়তার পরিবেশ। সোনার দাম বাড়লে যেমন চিন্তা, তেমনই কমলে আনন্দ। অনেকে এই সুযোগকে বিনিয়োগের সঠিক সময় হিসেবে দেখছেন।
সোনার দাম (Gold Price Today 24 October 2025)
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী কলকাতায় আজকের সোনার দাম নিম্নরূপ—
-
২৪ ক্যারেট (Fine Gold 995): প্রতি গ্রাম ₹১২,২৫৫
-
২২ ক্যারেট (কিনতে গেলে): প্রতি গ্রাম ₹১১,৬৪৫
-
২২ ক্যারেট (বেচতে গেলে): প্রতি গ্রাম ₹১১,১৫২
-
১৮ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ₹৯,৫৬০
-
রুপো (Silver 999): প্রতি কেজি ₹১,৪৯,৮৪০
এই দামের পতন উৎসবের মরশুমে অনেক ক্রেতার মুখে হাসি এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার এই সাময়িক মন্দা বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় সময় তৈরি করেছে।
সোনায় বিনিয়োগের প্রবণতা ও ইতিহাস
১৯৯৩ সালে তৈরি স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি (Swarnashilpi Bachao Committee) পশ্চিমবঙ্গের স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বর্তমানে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সভাপতি সমর কুমার দে জানিয়েছেন, “দামের ওঠানামা বাজারে স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
ভারতের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সোনার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সোনাকে লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই উৎসবের সময় বা মন্দার বাজার—দুই সময়েই ভারতীয়রা সোনা কেনাকে শুভ বলে মনে করেন।
সোনায় বিনিয়োগের উপায়
বর্তমানে বাজারে সোনায় বিনিয়োগের নানা পদ্ধতি রয়েছে। কেউ গয়না তৈরি করে, কেউ সোনার বার কেনেন, আবার কেউ ডিজিটাল গোল্ডে (Digital Gold) বিনিয়োগ করছেন। প্রতিটি পদ্ধতিরই নিজস্ব সুবিধা ও ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল গোল্ড ও গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ এতে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা দুই-ই বেশি। তবে গয়না কেনা এখনো ভারতীয় পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ।
সোনায় বিনিয়োগ এখন কতটা লাভজনক?
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে। মার্কিন অর্থনীতি ও ডলারের মূল্যের ওঠানামা এই প্রবণতায় প্রভাব ফেলবে। ফলে, দাম কিছুটা কমলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবেই রয়ে যাবে।
বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ, এই সময় যদি কেউ ধীরে ধীরে বিনিয়োগ শুরু করেন, তা ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন দিতে পারে।
ধনতেরস ও দীপাবলির পর সোনার দামে পতন বাজারে সাময়িক স্বস্তি এনেছে, তবে এটিই বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ। যারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ভাবছেন, তাঁদের জন্য এখন সোনা হতে পারে সঠিক বিকল্প।



