গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে কি বদলে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি? সামনে এলো গোপন তথ্য

হেড কোচ হিসেবে গম্ভীরের কঠোর দর্শন, দলে ঘন ঘন পরিবর্তন ও ভূমিকা-অনিশ্চয়তা ঘিরে ভারতীয় শিবিরে আস্থা বনাম আতঙ্কের বিতর্ক তুঙ্গে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় ক্রিকেটে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। সেই সময়ই **গৌতম গম্ভীর**কে জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। আগ্রাসী মানসিকতা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ কোচিং স্টাইলের জন্য পরিচিত গম্ভীর হোয়াইট-বল ক্রিকেটে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দর্শন কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমের পরিবেশ।

রিপোর্টে কী উঠে এল?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি, গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যেই জায়গা হারানোর আশঙ্কা বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তা আগের কোচ রাহুল দ্রাবিড়-এর সময়ে ততটা চোখে পড়েনি। দ্রাবিড়ের মেয়াদে খেলোয়াড়দের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ছিল এবং ধারাবাহিক সুযোগ মিলত—এমনটাই মত শিবিরের একাংশের।

নির্বাচনে নমনীয়তা, নাকি অনিশ্চয়তা?

গম্ভীরের কোচিং দর্শনে ব্যাটিং পজিশনকে খুব কড়াভাবে বাঁধা না রাখার কথা বলা হয়েছে—ওপেনিং জুটি ছাড়া। এতে দল নমনীয়তা পায় ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে প্লেয়িং ইলেভেনে ঘন ঘন বদল অনিশ্চয়তাও বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। ওয়ানডেতে **রোহিত শর্মা**র কাছ থেকে অধিনায়কত্ব সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও এই ট্রানজিশনের অংশ ছিল—যা বিতর্ক এড়াতে পারেনি।

শুবমান গিলের উদাহরণ

এই প্রেক্ষাপটে শুবমান গিল-এর কেসটি বারবার উঠে আসছে। শুরুতে **সঞ্জু স্যামসন**কে বাদ দিয়ে গিলকে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা দেওয়া হলেও, পরে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনা থেকে গিল নিজেই ছিটকে যান। কারণ হিসেবে বলা হয় ফর্ম ও কম্বিনেশন। এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বার্তা—‘পোস্টার বয়’ হলেও জায়গা স্থায়ী নয়।

প্রাক্তনদের উদ্বেগ

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় চলাকালীন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানান। তাঁর মতে, দলে বিভ্রান্তি ও আস্থার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কাইফ উদাহরণ দেন সরফরাজ় খানসাই সুদর্শন-এর। শতরান বা গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের পরও যদি ধারাবাহিক সুযোগ না মেলে, তবে খেলোয়াড়দের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—কিসের ভিত্তিতে আস্থা তৈরি হবে?

তুলনা কেন গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে?

কিছু রিপোর্টে গম্ভীরের কঠোরতার তুলনা টানা হয়েছে প্রাক্তন কোচ গ্রেগ চ্যাপেল-এর সময়ের সঙ্গে—যে অধ্যায় ড্রেসিংরুমের টানাপোড়েনের জন্য আজও স্মরণীয়। যদিও সমর্থকদের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই কঠোরতা ফলও দিতে পারে, যদি যোগাযোগ ও ভূমিকার স্পষ্টতা বাড়ে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

টিম ইন্ডিয়ার সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আস্থা ও স্থিতি ফিরিয়ে আনা। কঠোর মানদণ্ড বজায় রেখেও খেলোয়াড়দের বিশ্বাস অর্জনই গম্ভীর যুগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন