রবিবার গভীর রাতে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত গার্ডেনরিচের একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ে। জানা যায়, বহুতলটি বেআইনি। ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপরই গ্রেফতার করা হল দুর্ঘটনাগ্রস্ত বহুতলের প্রোমোটারকে। ধৃতের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে জমি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট তৃণমূল, বালুরঘাটে মেগা সভা অভিষেকের
গার্ডেনরিচকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে ১৪ ঘণ্টা। দুর্ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য শুরু হয়। আহত বহু। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬। সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেন, এই বহুতল বেআইনি ছিল। তাঁর হস্তক্ষেপের পরই অভিযুক্ত প্রোমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অবৈধ নির্মাণের জন্য কেএমসি অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়াও, ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার ধারা রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, বহুতলটির দোতলা পর্যন্ত অনুমোদন ছিল। কিন্তু প্রোমোটার আরও চার তোলা নির্মাণ করেছিলেন। সেখানেই সমস্যা হয়। ভবনটি ভার নিতে পারেননি। সেই কারণেই ভেঙে পড়ে বাড়িটি। এছাড়াও বহুতল তৈরির সামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu), সাংসদ মালা রায় সহ প্রমুখ। দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। এরপর সেখান থেকে হাসপাতালে যান, দেখা করেন আহতদের সঙ্গে। গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ও আহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আহতদের ১ লক্ষ টাকা ও মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হবে বলে জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরই গ্রেফতার প্রোমোটার, কেন ভেঙে পড়ল বেআইনি বহুতল?

গার্ডেনরিচ বহুতল ভাঙার (Garden Reach Collapse) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ কমিশনার স্পটে এসেছেন। মেয়র ছিলেন স্পটে। তিনি আমাকে মেসেজ করেছিলেন। দমকলমন্ত্রী ছিলেন। এটা খুব ঘিঞ্জি এলাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকা এরকম।’ পাশাপাশি বহুতল নির্মাণ নিয়ে প্রোমোটারদের বার্তা দেন তিনি। বলেন, ‘বাড়ি তৈরি করার আগে আশেপাশের গরীব মানুষের কথা ভাববেন।’



