নজরবন্দি ব্যুরোঃ অন্ন সংস্থানের জন্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। স্ত্রী গর্ভবতী (Pregnant)। তাই সাবধানেই তাঁকে নিয়ে কাজের জন্য অন্য জেলায় গিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু সেখানে যে এমন রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হতে হবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। অথচ বাস্তবে ঘটল তাই। রাতের অন্ধকারে রাতের ট্রেন ধরবেন বলে স্টেশনে দাঁড়িয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। তিন সন্তানের মা তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাত পোহালেই অক্ষয় তৃতীয়া সঙ্গে ইদ, একলাফে অনেকটাই দাম কমলো সোনা-রুপো
ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়েই অপেক্ষা করছিলেন ট্রেনের জন্য। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামীও। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে হোক বা একলা, এদেশের রাস্তাঘাট এখনও মেয়েদের জন্য এতটুকুও সুরক্ষিত হয়, আরও একবার প্রমাণিত হল। স্বামী সন্তানদের চোখের সামনে থেকেই তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ (Gangrape) করা হল ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে (Pregnant Women)। কেউ বাধাও দিতে পারল না।

শুধু তাই নয়, এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে এমন কুকীর্তি ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তারপর মারধর করে স্বামীর পকেট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকশো টাকা। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) গুণ্টুরের কাছে এই ঘটনার কথা শুনে শিউড়ে উঠছেন সকলে। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা জেলায়। সেখানেই এক স্টেশনে ট্রেনের আশায় দাঁড়িয়ে ছিল ওই পরিবার। রাতের ট্রেন আসার আগেই এই বিপত্তি। অভিযোগ তিনজন দুষ্কৃতী এসে স্বামী সন্তানদের সামনে থেকেই মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর তাঁকে গণধর্ষণ (Gangrape) করা হয়। পেটে সন্তান থাকলেও রেহাই পাননি তিনি। ৩ অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা মহিলা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মহিলার স্বামীর অভিযোগ, স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা সকলে, শুয়ে ছিলেন বেঞ্চের উপর। কাজের খোঁজে ভিনজেলায় যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ স্টেশনেই তিন জন এসে তাঁর স্ত্রীর উপর জোরজবরদস্তি করে। বাধা দিতে গেলে তিনি নিজেও বেধড়ক মার খান। সেখান থেকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলাকে। তিনজনই মদ্যপ ছিল বলে অভিযোগ। পুলিশের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরেছিলেন ওই ব্যক্তি, কিন্তু অভিযোগ, রেল পুলিশের টিকিও দেখতে পাননি কোথাও।
শিউরে ওঠার মত ঘটনা, স্বামী-সন্তানদের সামনেই অন্তঃসত্ত্বাকে গণধর্ষণ

পরে নিকটবর্তী ঝোপের মধ্যে ওই নির্যাতিতাকে পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার বকুল জিন্দালের বক্তব্য, ‘আমরা সূত্র পেয়ে জানতে পারি যে দুষ্কৃতীরা সকলেই স্থানীয়। একবেলা তারা গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পেরেছিল। বিকেলেই আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনাচক্রে বাচ্চাটি এদের সঙ্গে ভিড়ে গিয়েছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতা হতে পারে।’ ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা অন্ধ্রেই। মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ভি পদ্মা এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।








