গঙ্গাসাগর মেলাকে সামনে রেখে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতে বড়সড় স্বস্তির বার্তা। ২০২৬ সালের মেলা উপলক্ষে ট্রেন পরিষেবায় রেকর্ড বৃদ্ধি করতে চলেছে পূর্ব রেলওয়ে। ভিড় সামলাতে ও যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রেল মহল।
Eastern Railway-এর অধীন শিয়ালদহ ডিভিশন গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে মোট ১২৬টি বিশেষ ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের বছর যেখানে ৭২টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল, সেখানে এ বার সংখ্যাটা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাত্রাকে মসৃণ করতেই এই বড়সড় পরিকল্পনা।
এই বর্ধিত ট্রেন পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিয়ালদহের সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশনস ম্যানেজার শ্রী পঙ্কজ যাদব কন্ট্রোলার ও মূল সুপারভাইজারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বৈঠক করেন। সেখানে কন্ট্রোল অফিসকে ডিভিশনের ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, ১২৬টি বিশেষ ট্রেনের নিরাপদ ও সময়মতো চলাচলে কন্ট্রোল বিভাগের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, কী ভাবে এই অতিরিক্ত ট্রেনগুলিকে দৈনন্দিন ট্রেন সূচির সঙ্গে নির্বিঘ্নে সমন্বয় করা যায়। লক্ষ্য একটাই—পবিত্র Gangasagar-এ যাওয়া ও ফেরার পথে যাত্রীদের যেন কোনও অসুবিধায় পড়তে না হয়।
একই সঙ্গে অপারেশনাল শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তাও দেন শ্রী যাদব। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গঙ্গাসাগর মেলার সময় ডিভিশন সম্পূর্ণ ‘হাই অ্যালার্ট’-এ কাজ করবে। মানবিক ত্রুটির জন্য কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। যাত্রীদের দুর্ভোগ বা রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এমন যে কোনও গাফিলতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
রেল কর্তাদের কথায়, এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা কেবল সংখ্যার দিক থেকে নয়, পরিকল্পনা ও নজরদারির দিক থেকেও একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চলেছে। দক্ষতা ও নিরাপত্তাই থাকবে একমাত্র অগ্রাধিকার—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন।




