ভারতীয় ক্রিকেটে ফের বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত। চাকরি হারাচ্ছেন গম্ভীর—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের সাফল্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে গৌতম গম্ভীরের কোচিং রেকর্ড নিয়ে খুশি নয় বোর্ড। আজকের বিসিসিআইয়ের বৈঠকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আর সেই বৈঠকেই নতুন হেড কোচ হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির নামও আলোচনায় উঠছে।
গৌতম গম্ভীর ২০২৩ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্ব নেন। শুরুর দিকে তাঁর প্রতি প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মাঠের ফলাফল সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে পারেনি। টেস্ট ফর্ম্যাটে গম্ভীরের অধীনে ভারত কেবলমাত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ জিততে পেরেছিল। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা আসে একের পর এক। বিশেষত কিউয়িদের বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য লজ্জার অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।


যদিও ইংল্যান্ড সফরে শুভমন গিলের নেতৃত্বে ভারত লড়াই করেছিল এবং সিরিজ ড্র করতে পেরেছিল, তবুও সামগ্রিক ব্যর্থতা থেকে গম্ভীর মুক্তি পাননি। বোর্ডের একাংশ মনে করছে, ভারতীয় ক্রিকেটকে টেস্ট ফর্ম্যাটে নতুন নেতৃত্ব দিতে এখন একজন শক্তিশালী ম্যান ম্যানেজারের প্রয়োজন। আর সেই জায়গাতেই সামনে আসছে ধোনির নাম।
আকাশ চোপড়া জানিয়েছেন, ধোনিই হতে পারেন গম্ভীরের যোগ্য বিকল্প। তাঁর মতে, ধোনির অভিজ্ঞতা এবং ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলকে অন্য মাত্রা দিতে পারে। তবে এও সত্যি যে, ধোনি এখনও পর্যন্ত কখনওই কোচ হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেননি।
২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ধোনি মূলত আইপিএলেই খেলছেন। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি দলের মেন্টরের ভূমিকায় ছিলেন। যদিও সেবার ভারতের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। তা সত্ত্বেও ধোনির উপস্থিতি যে দলের মধ্যে বাড়তি প্রেরণা জোগায়, তা অনেক ক্রিকেটার স্বীকার করেছেন।


আকাশ চোপড়ার মতে, যদি ধোনিকে ভারতীয় দলের হেড কোচ করা হয়, তবে তাঁকে বছরের অন্তত দশ মাস সময় দিতে হবে। ধোনির মতো ব্যক্তিত্ব শুধুমাত্র কৌশলগত দিকেই নয়, ড্রেসিংরুমের আবহাওয়াতেও বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাঁর নেতৃত্বেই ভারত জিতেছে দুটি বিশ্বকাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এই কারণেই বিসিসিআইয়ের কিছু সদস্য ধোনিকে নতুন কোচ হিসেবে ভাবছেন।
অন্যদিকে গৌতম গম্ভীরের কোচিং ক্যারিয়ারেও কিছু উজ্জ্বল দিক রয়েছে। তাঁর অধীনে কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। জাতীয় দলের সাদা বলের ফর্ম্যাটেও কিছুটা সাফল্য এসেছে তাঁর হাত ধরে। কিন্তু টেস্ট ফর্ম্যাটে ধারাবাহিক ব্যর্থতাই তাঁর কেরিয়ারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে ধোনির জনপ্রিয়তা আজও আকাশছোঁয়া। তাঁর ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভক্তদের কাছে মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে “ক্যাপ্টেন কুল” করে তুলেছে। তাই যদি বিসিসিআই সত্যিই ধোনিকে কোচের আসনে বসায়, তাহলে তা হবে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
তবে প্রশ্ন একটাই—ধোনি কি কোচের কঠিন দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন? বর্তমানে তিনি আইপিএলকে ঘিরেই বেশি সক্রিয়। জাতীয় দলের সঙ্গে বছরের অধিকাংশ সময় কাটানো তাঁর জন্য কতটা সম্ভব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
অতএব, বিসিসিআইয়ের বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে পুরো ক্রিকেট দুনিয়া। চাকরি হারাচ্ছেন গম্ভীর, নাকি তাঁকেই আবারও শেষ সুযোগ দেওয়া হবে—এই উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই। আর যদি সত্যিই ধোনি কোচ হন, তবে ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়।







