কলকাতা শহরের ফুটপাথে সাধারণ মানুষের হাঁটাই দায়! কারণ দুই-তৃতীয়াংশ জুড়েই চলছে হকারদের ব্যবসা। সরকারি জমি জবরদখল ও শহরের ফুটপাথ দখলের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে ফুটপাথ খালি করার অভিযানও শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু, এরপর হকারদের উঠে যাবার জন্য একমাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে এই এক মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, পুরসভার কর্মীরা চালাচ্ছেন সমীক্ষা। কারণ, হকার জোন করে দেবার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাছাড়া পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের অর্থ ‘পেটে লাথি মারা’ যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে পারে। তাই সমীক্ষা চলছে হকারদের। আর কলকাতা পুরসভার এই সমীক্ষায় ধরা পড়ছে, শহরের ফুটপাথে বসে ব্যবসা করা সিংহভাগ হকার ভিনরাজ্যের। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে পেটের দায়ে এসে তাঁরা কলকাতার ফুটপাথ দখল করছেন।

ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের দখলে চলে যাচ্ছে কলকাতার ফুটপাথ, এ নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কলকাতা পুরসভার ১৫০ জন পুরকর্মীকে হকার সমীক্ষার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সমীক্ষার কাজ করতে এক একটি হকার জোনে ১০টি করে দল নামে। প্রতিটি দলে ছিল চার-পাঁচ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী। মোট ৪০টি এমন দল কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেছে।
বিহার-ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দাদের দখলেই কলকাতার ফুটপাথ, বলছে পুরসভার সমীক্ষা
এই দলের মূল কাজ, কোন রাস্তায় কত হকার বসছেন সেটা জরিপ করা। সঙ্গে হকারদের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, প্যান ইত্যাদি সংগ্রহ করছে পুরসভার সমীক্ষক দল। যাবতীয় তথ্য অ্যাপে নথিভুক্ত করানো হচ্ছে। সেখানে যে তথ্য উঠে এসেছে তা হল, কলকাতা শহরের রাস্তা ও ফুটপাথের বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছেন ভিনরাজ্যের বাসিন্দারাই।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, ২০১৫ সালের তালিকা অনুযায়ী শহরে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার হকার থাকার কথা। কিন্তু সমীক্ষা অনুযায়ী, গত ন’বছরে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে! এর পাশাপাশি, শহরের বিভিন্ন জায়গায় গৃহহীন, ভবঘুরেরা রাতে ফুটপাথেই থেকে যাচ্ছেন। তাঁদের পছন্দের জায়গা উড়ালপুলের নীচের অংশ। যা নিয়ে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে চিঠি দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।



