ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো? এক যাত্রার পৃথক ফল নিয়ে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল

ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো? এক যাত্রার পৃথক ফল নিয়ে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল
ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো? এক যাত্রার পৃথক ফল নিয়ে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো?  এই মুহুর্তে এই উত্তর চেয়ে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগেও নির্বাচন চলাকালীন বা তার আগেও বারবার শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের একাধিক পুরনো মামলায় ডেকে পাঠিয়েছিলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল্গুলি। তখনও শাসক দলের তরফ থেকে বলা হয়েছিলো, নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটাতেই বিজেপির মদতে এসব করছে তদন্তকারী সংস্থা গুলি।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাকেও গ্রেপ্তার করুন’, নিজাম প্যালেসে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তার পরে ভোট মিটেছে, বাংলার রাজনীতিতে পরিবর্তন বলতে বিধানসভায় বিরোধী দল বলতে বামেদের সরিয়ে এসেছে গেরুয়া শিবির, ক্ষমতা সেই কায়েম করেছে মমতার মা-মাটি-মানুষের সরকার। নতুন-পুরোনো মিশেলে তৈরি হয়েছে মমতা সরকার ৩.০। দিন কয়েক যেতেই এবার বিপত্তি। আজ সকালে একে একে ৪ জন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করেছে CBI, প্রসঙ্গ নারদা কান্ড।

সোমবার সকালেই তাঁর চেতলার বাড়ি থেকে ‘গ্রেপ্তার’ রাজ্যের নতুন পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ,  নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান সিবিআই (CBI) কর্তারা। অনুমতি ছাড়াই এই গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ‘নারদ মামলায় আমায় গ্রেফতার করা হল। এদিকে সোমবার সকালেই মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্রের খবর, সোমবারই নারদকাণ্ডে এই চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে জমা দেবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। চার্জশিটের বয়ান ঠিক করে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার পরেই সাতসকালে তড়িঘড়ি গেপ্তার করা হয়েছে। তার পর থেকেই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল। দিকে দিকে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। ইতিমধ্যেই নিজাম প্যালেসে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন বেআইনি ভাবে এঁদের গ্রেপ্তার করলে করতে হবে তাঁকেও।

এই গ্রেপ্তারি নজিরবিহীন, এই গ্রেপ্তারি বেআইনি দাবী তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছে স্থানে স্থানে। তার সঙ্গেই তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন মুকুল-শুভেন্দুকে নিয়ে। তাঁদের দাবি এক যাত্রায় পৃথক ফল কেনো?, যদি নারদ কান্ডে ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন তাহলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে ছাড় পাচ্ছেন কেনো মুকুল-শুভেন্দুরা।

প্রসঙ্গত, নারদ কান্ডে নাম জড়িয়ে আছে মুকুল-শুভেন্দুর। কিন্তু এই মুহুর্তে বহাল তবিয়তে আছেন তাঁরা। সেই নিয়েই উত্তাল রাজ্য। তৃণমূল সমর্থকদের মতে, বিজেপি করার ছাড় পাচ্ছেন তাঁরা। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ক্ষমতা থাকলে সিবিআই আগে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন। শুভেন্দু-মুকুলরা এখন বিজেপির কোলে বসে রয়েছে, তাই তাঁরা বাদ!’ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের মতে ‘এটা পুরোপুরিই প্রতিহিংসা। অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলায় হেরে গিয়ে এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নেমেছে বিজেপি। তাই সিবিআই-কে কাজে লাগানো হচ্ছে।’ একই বক্তব্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কাছে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো? সূত্রের খবর শুভেন্দুর নাম চার্জশিটে দেওয়ার জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়নি। যদিও সিবিআই-এর তরফ থেকে এই প্রসঙ্গে জানান হয়েছে, যে সময়ে মামলা শুরু হয়েছিল, সেই সময়ে শুভেন্দু অধিকারী সাংসদ ছিলেন। তাই তাঁর বিষয়ে ক্ষেত্রে তাই অনুমোদন দেবেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here