নজরবন্দি ব্যুরো: কৃষকদের বিক্ষোভ নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। বিগত দুমাস ধরে রাজধানীর সীমান্তে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে নিজেদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরেও মেলেনি কোনও সমাধান সূত্র। এরই মাঝে এই কৃষকদের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করে শিরোনামে উঠে এলেন কর্ণাটকের কৃষিমন্ত্রী বিসি পাতিল।
আরও পড়ুন: এবার সায়নী কান্ডে নয়া মোড়, তথাগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের
পাতিলের দাবি অনুযায়ী, যে কৃষকরা আত্মহত্যা করেন তাঁদের মন আসলে দুর্বল। এবং সেজন্যই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন চরম পথ বেছে নেওয়ার । কিন্তু এর সঙ্গে সরকারের কোনও যোগ নেই। তাঁর এহেন মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। যদিও এই প্রথম নয়, এর আগেও বহুবার এই ধরনের মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন পাতিল। মাইসুরুতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষক আত্মহত্যা মন্তব্য করেন বিসি পাতিল। তিনি বলেন, “সরকারের নীতির জন্য কেউ এমন চরম সিদ্ধান্ত নেয় না। কেবল কৃষকরাই নন, শিল্পপতিরাও তো আত্মহত্যা করেন। সব আত্মহত্যাকে কৃষক আত্মহত্যা বলা যাবে না।”
উল্লেখ্য, এর আগে বিগত ৩ ডিসেম্বর কোড়াগু জেলার পোন্নাম্পেটে কৃষকদের জন্য আয়োজিত এক সভায় বিস্ফোরক ভঙ্গিতে বিসি পাটিল বলেন, ‘‘যে কাপুরুষরা নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব নিতে পারেন না, তাঁরাই আত্মহত্যা করেন। জলে পড়ে গেলে আমাদের সাঁতরাতে হয়। তবেই জেতা সম্ভব হয়ে ওঠে।”
দুর্বল কৃষকরাই আত্মহত্যা করেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন নয়াদিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিল করার ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারী কৃষক সংগঠনগুলি। এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল কেন্দ্র। গত কয়েকমাস ধরেই দিল্লির রাজপথে চলছে কৃষকদের আন্দোলন। কেন্দ্রের সঙ্গে বারংবার বৈঠকের পরও মেলেনি সুরাহা। ফলে এর আগেই প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানী দিল্লির রাজপথ ট্রাক্টর প্যারেড করে কাঁপানোর কথা আগেই বলেছেন কৃষকরা। ওইদিন যাতে সুরক্ষা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে সেজন্য তৎপর দিল্লি পুলিশ প্রশাসন। তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ট্রাক্টর মিছিলের রুট এবং নিরাপত্তা নিয়ে সিংঘু সীমান্তে অবস্থানে বসা কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন পুলিশকর্তারা।



